মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

নোবিপ্রবি ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত ১০

উপজেলা প্রতিনিধি, নোবিপ্রবি
প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম

শেয়ার করুন:

নোবিপ্রবি ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত ১০

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ থেমে থেমে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায় চলতে থাকে। এতে সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক বহিরাগতকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ২টার দিকে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের এক পক্ষের হামলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সংঘর্ষে লাঠিসোঁটা হাতে কয়েকজন বহিরাগতও অংশ নেন। তাদের ক্যাম্পাসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

3f0aae63-9df5-4fd7-9ffe-d9b7d9971c8d

সংঘর্ষের ভিডিও ধারণের সময় দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি মাহী ছিদ্দীকী সিয়াম ও প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধি মেহেদী হাসানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের কর্মীদের বিরুদ্ধে। তাদের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিও ফুটেজ মুছে ফেলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মেসেঞ্জার তল্লাশিরও অভিযোগ করা হয়েছে।

দুপুরের সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীরা হলেন ১৫তম ব্যাচের শামীম হোসেন, আইসিই বিভাগের ১৭তম ব্যাচের সোহাগ চাকমা, টিএইচএম বিভাগের ১৭তম ব্যাচের মাহমুদুল হাসান অন্তর, ডিবিএ বিভাগের ১৭তম ব্যাচের কাইফ হাসান এবং ১৮তম ব্যাচের জহির হোসেন। এ সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের এক সাংবাদিকও আহত হন।

এর আগে মঙ্গলবার ভোরে সংঘর্ষের ঘটনায় পরিসংখ্যান বিভাগের ১৮তম ব্যাচের আনিসুর রহমান সিফাত, ফলিত গণিত বিভাগের ১৫তম ব্যাচের জাহিদুল ইসলাম হাসান ও কৃষি বিভাগের ১৯তম ব্যাচের সামিউল ইসলাম আহত হন। আহতদের প্রথমে নোবিপ্রবি মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে কয়েকজনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

6a1dc2fe-94a8-406f-84e5-4985e8f4ceeb

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হলের কক্ষের সিট অদলবদল নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের অনুসারীদের সঙ্গে সিনিয়র সহসভাপতি সাব্বির হাসানের অনুসারীদের বিরোধের সূত্রপাত। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

হামলার শিকার ছাত্রদল নেতা আনিসুর রহমান সিফাত অভিযোগ করেন, সিট নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালিয়েছেন।

ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি সাব্বির হাসান ঘটনাটিকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় নেতাদের জানিয়েছেন বলে জানান। সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন বলেন, তিনি ঘটনার বিষয়ে অবগত নন, বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে জানাবেন। সভাপতি জাহিদ হাসানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

5988ab77-7490-4507-a877-9e6702a436bd

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, প্রক্টরসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি ঘটনাস্থলে এসেছেন। প্রশাসন, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একসঙ্গে কাজ করছেন। এ মুহূর্তে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজন নেই। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত রাতের ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, আজকের ঘটনা সম্পর্কে জানার পরপরই তিনি সরেজমিনে পরিদর্শনে আসেন। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনা তদন্তে দ্রুত কমিটি গঠন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর