মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

খেলায় খেলায় শিশুদের শেখাতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম

শেয়ার করুন:

খেলায় খেলায় শিশুদের শেখাতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী
প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহসানুল হক মিলন

প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুদের শেখার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে খেলাভিত্তিক শিখন পদ্ধতি আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহসানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, খেলাধুলার মধ্য দিয়ে শেখার সুযোগ তৈরি হলে শিশুদের শেখার প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়। একই সঙ্গে শিশুদের শেখা ও খেলার জন্য মাঠ ও উন্মুক্ত জায়গা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজন রয়েছে।

সোমবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (ন্যাপ) ও সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ আয়োজিত ‘খেলায় খেলায় শিখি’ সহায়ক পুস্তিকা নিয়ে জাতীয় পর্যালোচনা কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘খেলায় খেলায় শিখি’ একটি অনন্য উদ্যোগ। খেলাধুলা ও খেলার মধ্য দিয়ে শিখলে শিশুদের শেখার প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়। আমাদের আরও ছোট বয়স থেকেই খেলার মাধ্যমে শেখার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

নিজের শৈশবের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, খেলার মাঠে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করেছি এবং নেতৃত্ব শিখেছি। এমনকি স্ক্র্যাবল খেলতে খেলতে নতুন শব্দ শেখার অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

শিশুদের শেখাতে দামি উপকরণের প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ উপকরণও সৃজনশীলভাবে ব্যবহার করা গেলে তা শেখার মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। একটি স্টপওয়াচের মাধ্যমেও শিশুরা সময়, গণনা ও সংখ্যা সম্পর্কে ধারণা নিতে পারে।

শিশুদের খেলার জায়গা কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, শিশুদের শেখা ও খেলার জন্য মাঠ ও উন্মুক্ত জায়গা ফিরিয়ে আনতে হবে। 

এ উদ্যোগকে কার্যকর করতে সরকার কাজ করছে। দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রতিটি খেলায় শেখার অনেক উপাদান রয়েছে। এখন এসব খেলাকে সামনে নিয়ে আসার পাশাপাশি প্রতিটি খেলা থেকে শিশুরা কী শিখতে পারে, সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

কর্মশালায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, খেলার মাধ্যমে শেখার ৪১২টি উদ্যোগ এবং স্থানীয় পর্যায়ের ৭০০টি খেলা নিয়ে গবেষণা করে সেগুলোকে শিখন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশুদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও সমালোচনামূলক চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, খেলাধুলা শিশুদের মানসিক সুস্থতায় সহায়তা করে এবং এর ইতিবাচক প্রভাব শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও পড়ে। দেশের প্রতিটি গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে আনন্দের সঙ্গে শেখার সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত ঐতিহ্যবাহী ও স্থানীয় খেলাগুলো প্রাথমিক শিক্ষায় কীভাবে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

এসব খেলাকে শ্রেণিকক্ষের শিখন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করে শিশুদের ভিত্তিমূলক স্বাক্ষরতা, গাণিতিক দক্ষতা এবং সামাজিক ও আবেগীয় বিকাশ জোরদার করাই উদ্যোগটির লক্ষ্য।

আয়োজকরা জানান, ‘খেলায় খেলায় শিখি’ সহায়ক পুস্তিকাটি তৈরির সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, শিল্পী ও শিশুদের সঙ্গে পরামর্শ করে স্থানীয় ও আঞ্চলিক খেলাগুলো চিহ্নিত ও যাচাই করা হয়েছে। পুস্তিকায় শ্রেণিকক্ষে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা, স্বল্পমূল্যের উপকরণ, নিরাপত্তা নির্দেশনা ও প্রতিফলনমূলক প্রশ্ন রাখা হয়েছে।

কর্মশালায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক শাহিনা ফেরদৌসী, সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত এবং ন্যাপের মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর