ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে সাত কলেজের সব সেশনের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তি ও একাডেমিক মাইগ্রেশনের দাবিতে ঢাকা কলেজের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা কলেজের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এর আগে ক্যাম্পাস থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়া এবং মূল ফটকে তালা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
আন্দোলনকারীরা ‘সেন্ট্রাল আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’, ‘সেন্ট্রাল নিয়ে তালবাহানা, চলবে না চলবে না’, ‘এফিলিয়েশন মুক্ত করো, রানিং সেশন যুক্ত কর’, ‘রানিং সেশনের দাবি, মানতে হবে মানতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আলা ফাহাদ বলেন, যতবার আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, ততবারই ঢাকা কলেজের মুক্তময়দান থেকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির দাবিতে স্লোগান উঠেছে। এবারও সাত কলেজের রানিং সেশন ও একাডেমিক মাইগ্রেশনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছিল। এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা কলেজে জড়ো হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা কলেজের প্রশাসনিক ভবন থেকে শিক্ষা সিন্ডিকেটের একটি দল বের হয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের বের করে দেয়। পরে ঢাকা কলেজের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং সেখান থেকে কোনো বিক্ষোভ মিছিল বের হতে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়। আমি ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী। আমাকে অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস স্যার প্রশ্ন করেছেন তুমি কে? আমি কিন্তু শিক্ষার্থী। একজন সরকারি আমলা বদলি হয়ে চলে যাবেন, কিন্তু আমি এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী।’
আন্দোলনকারীরা সাত কলেজের সব শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সংশ্লিষ্ট একাডেমিক প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত করা, রানিং সেশন যুক্ত করা এবং একাডেমিক মাইগ্রেশনের দাবি জানান।
আন্দোলনকারীদের একজন বলেন, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হলেও পুরোনো বা রানিং সেশনের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। ফলে শিক্ষার্থীদের পরিচয়, সনদ, একাডেমিক ধারাবাহিকতা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আন্দোলনকারীরা জানান, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে প্রশাসনের আচরণ এবং শিক্ষা সিন্ডিকেটের কর্মকাণ্ড নিয়ে তারা সংবাদ সম্মেলন করবেন। সেখানে তাদের দাবির বিষয়ে বিস্তারিত অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি পরবর্তী কর্মসূচিও ঘোষণা করা হবে।
তাদের দাবি, সাত কলেজের কোনো শিক্ষার্থীকে বাদ না দিয়ে সব সেশনকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির আওতায় এনে দ্রুত একাডেমিক মাইগ্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে রানিং সেশনগুলোর শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও প্রশাসনিক জটিলতা দ্রুত নিরসনের জন্য কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এম/এআরএম




