কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করে উচ্ছ্বসিত মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থী সামিহ্ মাশরুর। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, নিয়মিত পড়াশোনা এবং পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষকদের সহযোগিতাকে নিজের সাফল্যের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি। বিশেষ করে হাউস টিউটরের সহযোগিতা তার প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন এই শিক্ষার্থী।
শুধু ভালো ফলাফলেই থেমে থাকতে চান না সামিহ্। একাদশ শ্রেণিতে নটরডেম কলেজে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য তার। এরপর সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন রয়েছে তার। ছোটবেলা থেকেই যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে আসছেন, সেই মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল থেকে কাঙ্ক্ষিত ফল নিয়ে বের হতে পেরে বাঁধভাঙা উল্লাস।
সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ঢাকা মেইলের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় নিজের সাফল্য, প্রস্তুতি, অনুভূতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান সামিহ্ মাশরুর।
নিজের সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের জন্য বাবা-মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। তারা সবসময় আমাকে সহযোগিতা করেছেন এবং উৎসাহ দিয়েছেন। এরপর বলব শিক্ষকদের কথা। তাদের সহযোগিতাও আমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’
পড়াশোনার প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার হাউস টিউটরের সহায়তা অনেক বেশি কাজে দিয়েছে। পড়াশোনার বিভিন্ন বিষয়ে তিনি আমাকে সহযোগিতা করেছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি আমার ধারাবাহিক প্রস্তুতিও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে সহায়ক হয়েছে।’
সামিহ্ জানান, পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত পড়াশোনার চেষ্টা করেছেন তিনি। প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করার পাশাপাশি যেসব বিষয়ে দুর্বলতা ছিল, সেগুলোতে বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। পরিবারের উৎসাহ ও শিক্ষকদের পরামর্শ তাকে প্রস্তুতি ধরে রাখতে সাহায্য করেছে।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে উচ্ছ্বসিত সামিহ্ বলেন, ‘আমি এই স্কুলে প্রথম শ্রেণি থেকে পড়াশোনা করছি। এত বছর এই স্কুলের সঙ্গে ছিলাম। এখান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেয়েছি, এটা আমার জন্য অনেক আনন্দের। আমি অনেক বেশি খুশি। এই আনন্দ বলে বোঝানো যাবে না।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সামিহ্ মাশরুর জানায়, একাদশ শ্রেণিতে নটরডেম কলেজে ভর্তি হওয়াই এখন তার প্রধান লক্ষ্য। সেখানে ভর্তি হয়ে ভালোভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান তিনি। এরপর উচ্চশিক্ষা ও নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে গিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তার।
দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ করে এখন নতুন স্বপ্ন নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চান সামিহ্। তার বিশ্বাস, নিয়মিত পরিশ্রম, পরিবারের সহযোগিতা এবং শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা ভবিষ্যতেও তাকে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করবে।
এমআর/এএইচ



