বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ১৫তম ব্যাচের প্রথম বর্ষের ২৮ শিক্ষার্থীকে র্যাগিং ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ১৪তম ব্যাচের ১২ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। রোববার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন নির্মাণাধীন নভোথিয়েটারে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার বিষয়টি জানাজানি হলে নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, সিনিয়র শিক্ষার্থীরা নবীনদের চারজন করে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে নির্মাণাধীন নভোথিয়েটারের ভেতরে ঢোকান। সেখানে তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এ সময় নবীনদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
একপর্যায়ে ভুক্তভোগীরা চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। পরে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জানানো হয়।
এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিভাবক অভিযোগ করেন, কয়েক দিন ধরে সিনিয়র শিক্ষার্থীরা নবীনদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। তাদের লিফটে ওঠা, লাইব্রেরি ও ক্যাফেটেরিয়ায় যাওয়া নিষেধ করা হয়েছিল। এমনকি কী ধরনের পোশাক পরতে হবে, সেটিও সিনিয়ররা নির্ধারণ করে দিতেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর গাজী মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন নির্মাণাধীন নভোথিয়েটারে ১৫তম ব্যাচের ২৮ শিক্ষার্থীকে হয়রানি করা হয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় ১৪তম ব্যাচের দ্বিতীয় বর্ষের ১২ শিক্ষার্থীর জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থদণ্ড থেকে শুরু করে ছাত্রত্ব বাতিল পর্যন্ত শাস্তি হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে নিয়ে এসেছেন। অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তিও পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিনিধি/এসএস




