ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও জাকসু (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ) বা হল সংসদের মেয়াদ থাকাকালে আবাসিক হলে থাকার সুযোগ দিয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান করেছে জাকসু।
‘বিতর্কিত’ এই প্রজ্ঞাপন আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাতিলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আলটিমেটাম দিয়েছে ছাত্র সংসদ।
রোববার বিকেলে জাকসুর প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি জানান।
এসময় জাকসু এজিএস ফেরদৌস আল হাসান বলেন, প্রশাসন সোশাল মিডিয়া দেখে হলে অবৈধভাবে থাকার সুযোগ না দিয়ে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে। একাডেমিক সংস্কারে জাকসুর দাবিগুলো মেনে নিতে হবে। রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজ শুরু করতে হবে, সেইসাথে সব ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ ও সিদ্ধান্ত পরিহার করে শিক্ষার্থীবান্ধব পদক্ষেপ গ্রহণে প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি, প্রশাসনের এমন স্বপ্রণোদিত বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত গণরুম গেস্টরুম পুনরায় ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি করবে। তাই অনতিবিলম্বে পূর্বের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।
জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য নিয়মের বাইরে গিয়ে জাকসু প্রতিনিধিদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত আমরা জাকসু প্রতিনিধিরা গ্রহণ করব না। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিনিধির দলের স্বার্থে তৈরি এই প্রজ্ঞাপন নীতিগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার ও শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই এটি বাতিল করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসন নতুন হলগুলোর নির্মাণ ত্রুটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কিংবা পুরাতন হলগুলো সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নিলেও উড়ো কথার ভিত্তিতে অবৈধ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে- যা দুঃখজনক। অনতিবিলম্বে পূর্বের সিদ্ধান্ত বাতিল করে শিক্ষার্থীদের পক্ষে রায় দিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য মোহাম্মদ কামরুল আহসান জানান, শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত বিষয়টি নিয়ে আগামী প্রশাসনিক সভায় আলোচনা করা হবে। প্রজ্ঞাপনটি পুনর্বিবেচনা করা হবে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এলএ




