শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

জাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদকের পদত্যাগের ঘোষণা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, জাবি 
প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম

শেয়ার করুন:

জাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদকের পদত্যাগের ঘোষণা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সাংস্কৃতিক সম্পাদক শেখ জিসান আহমেদ প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বাধীনতার অভাব ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ তুলে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জিসান জানান, আগামী রোববার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। পরে দেওয়া আরেক পোস্টে তিনি পদত্যাগের কারণ তুলে ধরেন।

জিসানের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থাপক নির্বাচন নিয়ে একাধিকবার তার সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে পরিবর্তন আনা হয়। তার দাবি, টিএসসির শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে উপস্থাপক নির্বাচন করা হলেও পরে তালিকায় পরিবর্তন আনা হয়। অনুষ্ঠান শুরুর দুই ঘণ্টা আগে প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আরও দুজনকে উপস্থাপনায় যুক্ত করার কথা জানানো হয়। পরে মঞ্চে গিয়ে তিনি আরও দুজন উপস্থাপক দেখতে পান। সব মিলিয়ে অনুষ্ঠানে সাতজন উপস্থাপক ছিলেন বলে জানান তিনি।

এ নিয়ে জিসান প্রশ্ন তোলেন, “একই প্রোগ্রামে ৭ জন উপস্থাপক। ভাবা যায়?” তার অভিযোগ, এসব পরিবর্তন রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজন উপস্থাপক ভবিষ্যতে আর কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করবেন না বলে জানিয়েছেন, এবং আরেকজন অসম্মানিত বোধ করে অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে যান বলেও দাবি করেন তিনি।

মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠান চলাকালে আরেকটি ঘটনার কথাও জানান জিসান। তার অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকজন ছাত্রনেতার নাম তাকে দেওয়া হয় এবং মাইক্রোফোনে তাদের নাম ঘোষণা করতে চাপ দেওয়া হয়। তাদের অধিকাংশকেই তিনি চিনতেন না বলে দাবি করেন। নাম ঘোষণার পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তাকে ‘সরি’ বলার জন্যও চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জিসান লেখেন, “আমি কি আপনাদের দাবার গুটি মন চাইলো আর চাললাম?”

জিসান বলেন, তিনি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত হয়ে জাকসুতে এসেছেন এবং কোনো দল বা প্যানেলের অংশ ছিলেন না। তার অভিযোগ, নির্বাচিত হওয়ার পরও তাকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

নিজের কাজের প্রসঙ্গে তিনি জানান, জাকসুতে আসার আগে কোনো বাজেট ছাড়াই চলচ্চিত্র ও ছোট ভিডিও নিয়ে কাজ করেছেন। হাতে ফ্র্যাকচার থাকা সত্ত্বেও গত ১৫ দিন দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে কাজের প্রাপ্য সম্মান পাননি বলে অভিযোগ করেন।

পদত্যাগের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় জিসান লেখেন, “যেখানে ছাত্রনেতাদের উদ্দেশ্যই থাকে রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভ, সেখানে আমি ক্ষমতায় থেকে ক্ষমতা ছেড়ে গেলাম। আমার কাছে ক্ষমতা খুবই তুচ্ছ এবং আত্মমর্যাদা গুরুত্বপূর্ণ।”

পদত্যাগের ঘোষণায় তিনি আরও বলেন, তিনি কখনো রাজনীতি করেননি এবং ভবিষ্যতেও রাজনীতিতে আসবেন না। সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার কোনো আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী বলেও জানান।

প্রতিনিধি/ এজে

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর