বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

জুলাই আন্দোলনকারীদের ‘জঙ্গি’ আখ্যা, জাবিতে শিক্ষার্থী আটক

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, জাবি
প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৫ পিএম

শেয়ার করুন:

জুলাই আন্দোলনকারীদের ‘জঙ্গি’ আখ্যা, জাবিতে শিক্ষার্থী আটক
আটক শারাফাত শারিক রোহান। ছবি: ঢাকা মেইল

ফেসবুকে জুলাই আন্দোলনকারীদের ‘জুলাই জঙ্গি’ ও ‘জুলাই মুরতাদ’ আখ্যা দিয়ে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শারাফাত শারিক রোহানকে আটক করে জাকসু, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তির নেতাকর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হল থেকে তাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

এদিকে, সারাদেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এদিন সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ ছিল। 

সংশ্লিষ্টদের মতে, ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের পারস্পরিক সহাবস্থান, সমন্বয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকার কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

বুধবার অভিযুক্তের নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে করা দুটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সমলাচনার সৃষ্টি হয়। 

শারাফাত শারিক রোহান প্রথম পোস্টে লেখেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে ব্যবহার করে, দেশের মানুষের সাথে প্রতারণা করে, শত শত নিরীহ মানুষের লাশের উপর পা মেরে রাজনীতি করা জুলাই জঙ্গিদের পতন সমাগত। সত্য প্রকাশিত হবেই ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ সত্যবাদীদের সাথে আছেন। জুলাই মুর্দাবাদ। মুক্তিযুদ্ধ জিন্দাবাদ। জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।’

অপর আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বিতর্ক থাকতে পারে, তবে মুক্তিযুদ্ধ কোনো বিতর্কিত বিষয় নয়। যেই গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করার জন্য ‘আমি কে তুমি কে, রাজাকার রাজাকার’ স্লোগান দিয়েছে ও অতি আবেগী সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিপথগ্রস্ত করেছে এবং বিএনপির মতো তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধপন্থীদল তা সমর্থন দিয়ে প্রতারণা করে ক্ষমতায় এসেছে, তারা সমান দোষে দুষ্ট। বামপন্থীদের একটা বড় অংশ জুলাই প্রতারণায় ছাত্রদল ও তথাকথিত সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে সরেজমিনে ভূমিকা রেখেছে। এরাও সেই  নিকৃষ্টতম স্লোগানকে ডিফেন্ড করেছে এবং নির্লজ্জের মতো এখনো করছে। পট পরিবর্তন হলে আপনাদের সবাইকে এক মাপকাঠিতেই দেখা হবে। আপনারা সকলেই মুক্তিযুদ্ধবিরোধী। বিশ্বাসঘাতক। লক্ষ লক্ষ শহীদ, হাজার হাজার ধর্ষিতার প্রশ্নের জবাবে আপনারা কি বলবেন ঠিক করে রাখেন। আল্লাহ বুঝ দান করুক।’

পোস্ট দুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাকে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক হল থেকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান। সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী শারাফাত শারিক রোহান বলেন, আমি আওয়ামী লীগ বা আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন বা কোনো প্রকার ছাত্রদল, শিবির বা কোনো প্রকার রাজনৈতিক দলের সাথে অ্যাফিলিয়েটেড নই, সংশ্লিষ্ট নই। এমনকি এর সাথে সংশ্লিষ্ট কেউ আমাকে কোনো প্ররোচনা, কোনো প্রকার বার্তা, কোনো প্রকার অ্যাডভাইস দেয়নি। আমি আমার পলিটিক্যাল আইডিওলজি বিভিন্ন সময় ফেসবুকে পোস্ট করেছি। ‘জুলাই জঙ্গি', 'জুলাই মুরতাদ' শব্দ দুটি ব্যবহার করেছি, যা ব্যবহার করা অনুচিত হয়েছে। জুলাই আন্দোলন বাংলাদেশের মানুষের আবেগের জায়গা এবং এখানে আঘাত করা আমার অনুচিত হয়েছে। ওই জন্য অনুতপ্ত এবং ক্ষমাপ্রার্থী।

তিনি আরও বলেন, এখানে জুলাইকে টার্গেট করা আমার মূল উদ্দেশ্য ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের ওপর যে আঘাত এসেছে, সেটাকে সমালোচনা করতে গিয়ে আমার শব্দচয়নে ভুল হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. জাকির হোসেন,  প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা তাকে হল থেকে নিয়ে আসার সময় তার পোস্ট, ভিডিও ক্লিপে বেশ কিছু আলামত পাওয়া গেছে। এসব আলামতের মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা প্রচলিত আইসিটি আইনের পরিপন্থি বলে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসন জরুরি সভা করেছে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঘটনার সত্যতা কতটুকু এবং অভিযোগগুলোর ভিত্তি কতটা তা নির্ধারণ করবে। তার কয়েকজন বন্ধু মানসিকভাবে কিছুটা সমস্যার কথা বলেছে। সেটিও কতটা সত্য এবং এ বিষয়ে কোনো প্রাসঙ্গিকতা আছে কি না, তদন্ত কমিটি তা যাচাই করবে।

প্রক্টর আরও বলেন, আপাতত আইসিটি আইনের পরিপন্থি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এলএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর