বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

জুলাইয়ের শহীদরা জাতীয় ইতিহাসের আলোকবর্তিকা: ভিসি আমানুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৩ পিএম

শেয়ার করুন:

জুলাইয়ের শহীদরা জাতীয় ইতিহাসের আলোকবর্তিকা: ভিসি আমানুল্লাহ
নেপালের কাঠমান্ডুতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি আমানুল্লাহ

জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদরা জাতীয় জীবনের অন্যতম প্রেরণার উৎস এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের আলোকবর্তিকা বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। 

তিনি বলেন, ‘তাদের (শহীদদের) আত্মত্যাগ বাংলাদেশে নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার সূচনা করেছে। শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করা সম্ভব নয়। তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং স্মৃতি সংরক্ষণ করা জাতির দায়িত্ব।’

বুধবার (৫ আগস্ট) নেপালের কাঠমান্ডুতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ড. আমানুল্লাহ।

গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই আন্দোলন শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা ছিল না; বরং বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার একটি ঐতিহাসিক অঙ্গীকার। শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।’

তিনি জানান, ‘শহীদ পরিবারের সামাজিক ও আর্থিক সহায়তার অংশ হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারকে ৮ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শহীদ পরিবারের শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়া অসচ্ছল, প্রান্তিক ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি শিক্ষাবৃত্তি ২০২৫’ চালু করা হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে শহীদ শিক্ষার্থীদের নামফলক সংবলিত স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের পাশাপাশি অধিভুক্ত কলেজগুলোর পাঠাগার, আবাসিক হল ও প্রধান ভবন শহীদদের নামে উৎসর্গ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

৩৬ দিনের আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে ড. আমানুল্লাহ শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং আহত, দৃষ্টিশক্তি হারানো ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, শ্রমজীবী মানুষ, চিকিৎসক, রিকশাচালক, নারী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে এই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে।’

আন্দোলনের অর্জন ধরে রাখতে মতভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে ভিসি আমানুল্লাহ বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অভ্যন্তরীণ বিভক্তির কারণে অনেক গণআন্দোলন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। তাই সমতা প্রতিষ্ঠা ও গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকার ঘোষিত ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দময় ও ভীতিমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনা করছে।’

এছাড়া কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করতে তথ্যপ্রযুক্তি, ভাষা দক্ষতা, ফ্রিল্যান্সিং, উদ্যোক্তা উন্নয়নসহ বিভিন্ন দক্ষতাভিত্তিক শর্ট ও সার্টিফিকেট কোর্স চালুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) মহাসচিব রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অধ্যাপক আমানুল্লাহর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। 

তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের সময় তাঁর কৌশলগত দিকনির্দেশনা ও প্রকাশ্য অবস্থান সাধারণ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছিল। একই সঙ্গে গণমাধ্যমেও তিনি আন্দোলনের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।’

বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিম, দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনৈতিক মিশনের সদস্য এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এম/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর