বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

৩০ বিশ্ববিদ্যালয়ে হবে ল্যাংগুয়েজ সেন্টার, চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম

শেয়ার করুন:

৩০ বিশ্ববিদ্যালয়ে হবে ল্যাংগুয়েজ সেন্টার, চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার
চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। ছবি- সংগৃহীত

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। একই সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি একটি আন্তর্জাতিক ভাষা শেখানোর লক্ষ্যে দেশের ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যাংগুয়েজ সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

আগামী তিন মাসের মধ্যেই এ কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ইউজিসি কার্যালয়ে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস এবং চীনের জিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব তথ্য জানান ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। 

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে দেশের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যাংগুয়েজ সেন্টার রয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে মোট ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং উন্নয়ন সহযোগিতা দ্রুত বাড়ছে। এ বাস্তবতায় ভাষাগত দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় চীনা ভাষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যাতে ভাষা দুই দেশের সহযোগিতার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ আরও বলেন, দেশে চীনা ভাষা শেখানোর জন্য পর্যাপ্ত দক্ষ শিক্ষক নেই। এ ক্ষেত্রে চীন সহযোগিতা করলে বাংলাদেশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি প্রশিক্ষকদের চীনে পাঠিয়ে দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগও নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও বাংলা ভাষা শিক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলে দুই দেশের শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

বৈঠকে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, স্নাতকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা, পাঁচ বছর মেয়াদি উচ্চশিক্ষা রূপান্তর কর্মসূচি, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনে বৃত্তি ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা খাতে যৌথ সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

চীনা প্রতিনিধিদল জানায়, তাদের গ্লোবাল টিচার্স ট্রেনিং প্রোগ্রাম-এর আওতায় বাংলাদেশি শিক্ষকদের ভাষা দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়া জিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির ইন্টারন্যাশনাল চাইনিজ ল্যাংগুয়েজ এডুকেশন সেন্টারের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

বৈঠকে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, সচিব ড. ফখরুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক ড. সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর