ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘জুলাই ৩৬ গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪’-এর দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ আনাসের মাকে উদ্দেশ করে লেখা চিঠির স্মৃতিফলক উন্মোচন করেছে প্রশাসন।
সোমবার বেলা সোয়া ১১টায় শহীদ আনাস হলে এ ফলক উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ কে এম মতিনুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- উপ-উপাচার্য এমতাজ হোসেন এবং কোষাধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী।
এসময় শহীদ শাহারিয়ার খান আনাসের বাবা শাহরিয়ার খান পলাশ ও নানা সাইদুর রহমান খান, 'জুলাই ৩৬ গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪' উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য-সচিব, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্ট, বিভাগীয় সভাপতি, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা-সহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসির ১১৬ নং কক্ষে ইবি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে তিনটি বিভাগে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় ক-বিভাগের (প্লে হতে চতুর্থ শ্রেণির) বিষয় ছিল ‘বুলেটের সামনে আমাদের আবু সাঈদ’।
এছাড়াও খ-বিভাগের (পঞ্চম হতে সপ্তম শ্রেণি) ‘পানি লাগবে পানি, পানি...’ এবং গ-বিভাগের (অষ্টম হতে দশম শ্রেণি) ‘জুলাই বিপ্লবে পুলিশের নৃশংসতা’ বিষয় হিসেবে ছিল।
ফলক উন্মোচনকালে উপাচার্য একেএম মতিনুর রহমান বলেন, এই চিঠি পড়ে সকলেই জানতে পারবে আনাস দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে চেয়েছিল। দশম শ্রেণিতে পড়া আনাসের দেশপ্রেমের চিহ্ন আমাদের অনুপ্রাণিত করবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যতদিন দায়িত্বে থাকবে, ততদিন ৩৬ জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে কর্মসূচিগুলো গুরুত্বের সাথে পরিচালনা করবে।
শহীদদের জন্য মাগফেরাত ও আহত ও তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ ও সমাজ বিনির্মাণে এই চিঠির প্রতিবদ্ধ বিষয়গুলো ধারণ করে সবাই যেন দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে পারি। তাহলেই শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে এবং তাদের আত্মত্যাগ সফল হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দশম শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার খান আনাস তাঁর মাকে একটি চিঠি লিখে সকালে রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার ভাড়া বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। রাজধানীর চাঁনখারপুলে পুলিশের গুলিতে তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
প্রতিনিধি/এলএ




