বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ঢাকা

‘গবেষণা প্রকল্প মূল্যায়নে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম

শেয়ার করুন:

‘গবেষণা প্রকল্প মূল্যায়নে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে’
বক্তব্য দিচ্ছেন ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

হিট প্রকল্পের একাডেমিক ইনোভেশন ফান্ডের আওতায় গবেষণা উপ-প্রকল্প নির্বাচনের প্রতিটি ধাপে শতভাগ স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। তিনি বলেন, গবেষক, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।

বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমিতে হিট প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত উপ-প্রকল্প মূল্যায়ন পরিচিতি শীর্ষক দিনব্যাপী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে গবেষণা প্রকল্পের মূল্যায়নকারীরা অংশ নেন।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, একাডেমিক ইনোভেশন ফান্ডের আওতায় প্রথম পর্বের উপ-প্রকল্প মূল্যায়ন ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষক সমাজের একটি অংশে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। সেই ধারণা দূর করে গবেষকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে মূল্যায়ন ব্যবস্থায় নানা সংস্কার আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, গবেষণা প্রকল্প আহ্বান, মূল্যায়ন, অর্থায়ন, বাস্তবায়ন থেকে শুরু করে প্রকল্পের ফলাফল ও প্রভাব মূল্যায়ন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা হচ্ছে। দেশের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গবেষণার মানোন্নয়নই এ তহবিলের মূল উদ্দেশ্য।

ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, দ্বিতীয় ধাপের গবেষণা প্রকল্পের আহ্বান প্রায় ছয় মাস আগে করা হলেও শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে সময় লেগেছে। নির্ধারিত তথ্য যথাযথভাবে না দেওয়ায় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আবেদন প্রাথমিক পর্যায়েই বাদ পড়েছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে আবেদনকারীদের নাম ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় গবেষণা প্রস্তাবে উল্লেখ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। বিজ্ঞপ্তি ও মূল্যায়ন-সংক্রান্ত বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিকবার এ বিষয়ে অবহিত করা হলেও অধিকাংশ আবেদনকারী নির্দেশনা অনুসরণ করেননি। ফলে নীতিমালা অনুযায়ী এসব প্রস্তাব মূল্যায়ন প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় নতুন ব্যবস্থা চালুর কথা জানিয়ে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, প্রতিটি বিষয়ে পৃথক বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করা হয়েছে এবং প্রত্যেক মূল্যায়নকারীকে একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি নম্বর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য সম্ভাব্য ছয় থেকে আটজন বিশেষজ্ঞের তালিকা থেকে লটারির মাধ্যমে দুজন মূল্যায়নকারী নির্বাচন করা হচ্ছে। এতে ব্যক্তি-নির্ভরতা কমবে এবং নিরপেক্ষতা আরও নিশ্চিত হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃত দক্ষ, সৎ ও অভিজ্ঞ গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং নীতিনির্ধারকদের সমন্বয়ে মূল্যায়নকারী প্যানেল গঠন করা হয়েছে। অনলাইন আবেদন ও প্রাতিষ্ঠানিক সুপারিশের ভিত্তিতে তাঁদের নির্বাচন করা হয়েছে।

মূল্যায়নকারীদের উদ্দেশে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, কোনো ধরনের পক্ষপাত, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, প্রভাব বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে গবেষণার মান, মৌলিকত্ব, বাস্তব প্রয়োগ এবং জাতীয় প্রয়োজন বিবেচনায় প্রকল্প মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে একজন মূল্যায়নকারী যেন এক দিনে একটির বেশি প্রকল্প মূল্যায়ন না করেন, যাতে প্রতিটি প্রস্তাব গভীরভাবে পর্যালোচনা করা সম্ভব হয় এবং মূল্যায়নের গুণগত মান বজায় থাকে।

গবেষণা মূল্যায়নের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় মূল্যায়নকারীদের কঠোরভাবে গোপনীয়তা বজায় রাখার আহ্বানও জানান তিনি।

আলোচনা সভায় ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, অধ্যাপক ড. মো. মেহেদী হাসান খান, অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন, অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী এবং হিট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর