ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়েছে মারাত্মক ক্ষতিকর ও বিষাক্ত আগাছা ‘পার্থেনিয়াম’। এর ফলে ক্যানসার, শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগসহ নানা জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তবে ক্যাম্পাস থেকে এই বিষাক্ত উদ্ভিদ নির্মূলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র-নজরুল কলাভবন, মীর মশাররফ হোসেন ভবন, ব্যবসায় প্রশাসন ভবন, বিজ্ঞান ভবন, কেন্দ্রীয় মসজিদ, মীর মুগ্ধ সরোবর এবং আইআইইআর (IIER)-সহ বিভিন্ন একাডেমিক ভবন ও আবাসিক হলের আশপাশের ফাঁকা জায়গায় অবাধে জন্মেছে পার্থেনিয়াম।
উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের মতে, পার্থেনিয়ামে থাকা ‘পার্থেনিন’ ও ‘সেস্কুটার্পিন ল্যাকটোন’ নামক বিষ মানবস্বাস্থ্য, গবাদিপশু ও কৃষির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ ফুলের রেণু বাতাসে ভেসে মানুষের সংস্পর্শে এলে ত্বকে অ্যালার্জি, ডার্মাটাইটিস (চামড়ায় ফুসকুড়ি) ও একজিমা হতে পারে। রেণু নিঃশ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে ঢুকলে হাঁপানি ও তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। শুধু মানুষ নয়, গবাদিপশু এই ঘাস খেলে তাদের মুখে ও পৌষ্টিকতন্ত্রে ঘা হয়। অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে পশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া কৃষিজমিতে পার্থেনিয়ামের উপস্থিতির কারণে ফসলের ফলন প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিদিন এসব এলাকা দিয়ে শত শত শিক্ষার্থী চলাচল করেন। বিষাক্ত এই আগাছার এত কাছাকাছি অবস্থান তাদের প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে। দ্রুত ক্যাম্পাস থেকে এই আগাছা পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ক্যাম্পাসের এই চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের প্রধান মোহাম্মদ আলাউদ্দিন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম স্থবির থাকার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দীর্ঘদিন বেতন না দেওয়ার কারণে তারা কাজ করছেন না। ফলে এই বিষাক্ত গাছ জন্মালেও এই মুহূর্তে আমাদের কিছু করার নেই।
প্রতিনিধি/টিবি




