বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উপবৃত্তির তালিকা ধর্মীয় রূপ দিয়ে অপপ্রচার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম

শেয়ার করুন:

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উপবৃত্তির তালিকা ধর্মীয় রূপ দিয়ে অপপ্রচার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মাগুরার শালিখা উপজেলার শিক্ষার্থীদের একটি উপবৃত্তির তালিকা  দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, সেখানে শুধু সনাতন শিক্ষার্থীদের নাম রাখা হয়েছে এবং মুসলিম শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা হয়েছে।

কোথাও দাবি করা হচ্ছে, মাগুরা-২ আসনের ৩৫ জন উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সবাই সনাতন। একইসঙ্গে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক আচরণ উল্লেখ করে বিএনপি সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীকে তুলোধুনো করছেন নেটিজেনদের একাংশ।

তবে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, এই দাবি বিভ্রান্তিকর। ভাইরাল হওয়া তালিকাটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের নয়; এটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত)’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির তালিকা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত ১ এপ্রিল জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন। এর আওতায় দরিদ্র ও অসহায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি, বসতঘর, বাইসাইকেল, সেলাই মেশিনসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হয়। উপকারভোগীর তালিকা জেলা ও উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত করে।

বিষয়টি নিয়ে শালিখার গঙ্গারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রণব কুমার বিশ্বাস জানান, তার বিদ্যালয়ে ১৫ থেকে ২০ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী রয়েছে। এর আগেও তারা একই কর্মসূচির আওতায় উপবৃত্তি পেয়েছে।

বিপ্লব বিশ্বাস নামে তালিকায় থাকা এক শিশুর বাবা গণমাধ্যমকে জানান, তারা বাগদী সম্প্রদায়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। তাদের এলাকায় কেউ ‘রায়’ আবার কেউ ‘বিশ্বাস’ পদবি ব্যবহার করেন। সরকারি গেজেটেও বাগদী সম্প্রদায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃত।

এ বিষয়ে শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, ‘ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া তালিকাটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির তালিকা। তাই সেখানে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের নামই রয়েছে।’

তিনি আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে তালিকাটি ছড়ানো হয়েছে, সেটি অসম্পূর্ণ। প্রকৃত তালিকায় মোট ৬৪ জন শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে। একই পরিবারের একাধিক শিক্ষার্থীও তালিকাভুক্ত রয়েছে এবং যোগ্য কোনো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীকে বাদ দেওয়া হয়নি।

তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের অনেকের নামের শেষে ‘বিশ্বাস’ ও ‘মণ্ডল’ পদবী থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তোলা হয় তারা কীভাবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। তবে মাগুরার শালিখা উপজেলায় ‘বিশ্বাস’ ও ‘মণ্ডল’ পদবি ব্যবহারকারী রাজবংশী ও বাগদীসহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস রয়েছে।

স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, শালিখায় রাজবংশী আদিবাসীদের সংগঠন ও কার্যক্রম বহু বছর ধরেই রয়েছে। অতীতেও ওই এলাকায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা বৃত্তি ও বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়েছে।

এমএইচ/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর