বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

চবিতে বিরোধের জেরে ছাত্রশক্তি নেতাকে মারধরের অভিযোগ, আহত প্রক্টর

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, চবি
প্রকাশিত: ০১ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম

শেয়ার করুন:

চবিতে বিরোধের জেরে ছাত্রশক্তি নেতাকে মারধরের অভিযোগ, আহত প্রক্টর

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ফুটবল ম্যাচ দেখা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ছাত্রশক্তির এক নেতাকে ফোন করে ডেকে এনে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টর আহত হয়েছেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন কয়েকজন সাংবাদিকও।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার উলফাতুর রহমান রাকিব বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক এবং নাট্যকলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

রাকিবের অভিযোগ, তার বন্ধু পলাশ মোল্লা ফোন করে জানান, এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাকে শাহজালাল হল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে নিতে হবে। তিনি মোটরসাইকেলে করে ওই শিক্ষার্থীকে মেডিকেলে পৌঁছে দেন। পরে ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিব তাকে শাহজালাল হলের সামনে যেতে বলেন। সেখানে পৌঁছানোর পর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাবেদ, ক্রীড়া সম্পাদক মামুনসহ ১৫ থেকে ২০ জন তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তার কান ছিঁড়ে যায় এবং গলা, হাত ও পিঠে গুরুতর আঘাত লাগে।

267c0d69-7976-4ce3-91a6-54927e301b0b

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুন রাতে ছাত্রদলের উদ্যোগে শাহজালাল হল এলাকায় জায়ান্ট স্ক্রিনে ফুটবল ম্যাচ দেখানো হচ্ছিল। খেলা দেখার সময় সামনে বসাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এর জের ধরে মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক মামুনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা অ্যাসোসিয়েশনের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে। পরে আহত এক শিক্ষার্থীকে মোটরসাইকেলে করে মেডিকেলে পৌঁছে দিয়ে ফেরার পর শাহজালাল হলের সামনে রাকিবের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য পলাশ মোল্লা বলেন, তাদের এলাকার কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিরোধের জেরে তিনি শাহজালাল হলে যান। আহত এক শিক্ষার্থীকে মেডিকেলে নেওয়ার জন্য রাকিবকে ডাকেন। পরে রাকিব মোটরসাইকেল না থামিয়ে সরাসরি মেডিকেলে চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হন।

তবে ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক মামুন দাবি করেন, আগের দিন জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা দেখার সময় দিশান ও ইয়াফির সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। মঙ্গলবার রাতে দিশান, পলাশ মোল্লা, রেজাউরসহ কয়েকজন তাকে মারধর করেন। পরে রাকিব হামলায় জড়িত দুজনকে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেন।

অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাবেদ বলেন, জিরো পয়েন্টে মামুনের ওপর হামলার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা দেখেন, রাকিব হামলায় জড়িত দুজনকে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যাচ্ছেন। তাদের ধারণা, তিনি হামলাকারীদের সহযোগিতা করেছেন।

c45f4a36-b32a-469e-baea-0fe166510862

ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন বলেন, তাদের কর্মীর ওপর হামলার পর পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে সাংবাদিক ও প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় দলের কোনো সদস্য জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে দিশান দাবি করেন, বড় পর্দায় খেলা দেখতে গিয়ে তিনি ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক মামুন ও তার অনুসারীদের হাতে মারধরের শিকার হন। বিষয়টি জানার পর জেলা অ্যাসোসিয়েশনের কয়েকজন সদস্য মামুনের সঙ্গে কথা বলতে যান। সেখানে সামান্য ধাক্কাধাক্কি হলেও রাকিব ওই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত ছিলেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, ফুটবল ম্যাচ দেখা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে তিনি ও সহকারী প্রক্টর আহত হয়েছেন। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উভয় পক্ষকে আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছে। সাংবাদিকদের হেনস্তার ঘটনাও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর