বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ঢাকা

রাকসু জিএস আম্মারের বিরুদ্ধে হল সংসদের জিএসকে মারধরের অভিযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, রাবি
প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০২৬, ০৬:৫৮ এএম

শেয়ার করুন:

রাকসু জিএস আম্মারের বিরুদ্ধে হল সংসদের জিএসকে মারধরের অভিযোগ
রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার

আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া ম্যাচ চলাকালীন এলইডি স্ক্রিনের সামনে বসার কারণে নবাব আব্দুল লতিফ হল সংসদের জিএস নুরুল ইসলাম শহিদকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে।

বুধবার (১৭ জুন) রাত ১০টায় ফেসবুকে নিজ আইডিতে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও নবাব আব্দুল লতিফ হল সংসদের জিএস নুরুল ইসলাম শহিদ।


বিজ্ঞাপন


ফেসবুক পোস্টে শহিদ লিখেন, আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ উপলক্ষে আমি এবং আমার হলের কয়েকজন বড় ভাই হবিবুর রহমান হল মাঠে খেলা দেখতে যাই। সেখানে দর্শকদের সঙ্গে বসে খেলা উপভোগ করছিলাম। খেলার প্রায় ৩০-৩১ মিনিটের সময় রাকসুর ভিপি মুস্তাকুর রহমান জাহিদ এবং হবিবুর রহমান হলের জিএস আশিক শিকদার আমাকে তাদের পাশে এসে খেলা দেখার জন্য ডাকেন। প্রথমে যেতে রাজি না হলেও পরবর্তীতে তাদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে এলইডি স্ক্রিনের পাশের একটি নির্ধারিত স্থানে যাই, যা সুতা দিয়ে ঘেরা ছিল। সেখানে ভিপির পাশে বসে খেলা দেখতে শুরু করি। একই স্থানে অন্য পাশে জিয়া হলের জিএস ও রাকসুর একজন কার্যনির্বাহী সদস্যও উপস্থিত ছিলেন।

মারধরের বিষয়ে লিখেন, সেখানে বসে খেলা দেখার প্রায় এক মিনিট পর রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার এবং রাকসুর সহ-ক্রীড়া সম্পাদক আবু সাঈদ সামি সেখানে আসেন। এ সময় রাকসু ভিপি এক গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য স্থান ত্যাগ করেন। ভিপি সরে যাওয়ার পরপরই সালাউদ্দিন আম্মার আমাকে সেখান (এলইডি স্ক্রিন) থেকে উঠে যেতে বলেন। আমি কারণ জানতে চাইলে তিনি আমার গেঞ্জির কলার ধরে টানতে টানতে বলতে থাকেন যে, সেখানে কেউ থাকতে পারবে না এবং আমাকে সেখানে দেখলে অন্যরাও আসতে চাইবে। পুরো সময় তিনি আমার পোশাক ধরে টানাটানি করেন এবং একপর্যায়ে আমাকে জোরপূর্বক দড়ির ভেতরের স্থান থেকে বের করে দেন।

তিনি আরও লিখেন, এ সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ভিপি সেখানে ফিরে আসেন। আমি তাকে বলি যে, আজকের পর থেকে ভবিষ্যতে আপনাদের কোনো কার্যক্রমে আমি বা আমরা অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী নই, কারণ এ ধরনের ব্যবহার আমরা প্রত্যাশা করি না এবং মেনে নিতেও পারি না। তবে ভিপি ঘটনাটির পূর্ববর্তী অংশ প্রত্যক্ষ না করেই আমাকে শান্ত হতে বলেন এবং কেন আমি আম্মারের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছি, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরবর্তীতে তিনি আমাকে সেখান থেকে অন্যত্র নিয়ে যান।

জানতে চাইলে প্রত্যক্ষদর্শী রাকসুর সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক আবু সাঈদ নূন বলেন, আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম, তবে মূলত কী ঘটেছিল তা আমি জানি না। কারণ আমি স্ক্রিনের পাশে বক্সের একদম সামনে অবস্থান করছিলাম। সেখানে কী কথা হয়েছে বা কোনো গালাগালির ঘটনা ঘটেছে কি না, তা আমি স্পষ্টভাবে শুনতে পারিনি। তখন আমার মনে হয়েছিল, হয়তো সামান্য কোনো ঝামেলা হয়েছে। পরে কিছুক্ষণ আগে আমি তার (নুরুল ইসলাম শহীদ) পোস্টটি দেখতে পাই।


বিজ্ঞাপন


474a06cb-4d06-4372-b966-3e19b1655244

তবে মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি বলেন, রাকসুর আয়োজনে খেলা দেখানো হয়েছে সেখানে সবাই সমান। শৃঙ্খলার ব্যাপারে গতবারের থেকে শিক্ষা নিয়ে চেষ্টা করেছি কোনো ঝামেলা ছাড়াই আয়োজন সুন্দর করার। আমাদের বোনেরা স্ক্রিনের বাম পাশে বসেছিল। এখানে সামনে কেউ দাঁড়ালে আমাদের বোনেরা দেখতে পারছিল না। দায়িত্বের জন্য আমি এখানে ভিতরে এক কোনায় দাঁড়িয়ে ছিলাম আর কাউকে এখানে আসতে দিচ্ছিলাম না। হঠাৎ সে আসে তখন পিছনের বোনেরা দেখতে পাচ্ছিল না। আমি তাকে স্ক্রিনের ডানপাশে ভিপির পাশে গিয়ে বসতে বলি। সে সেখান থেকে বের হয়ে গালি দিতে দিতে চলে যায়।

আম্মার আরও বলেন, দায়িত্ব নিয়ে বলছি, আমি তার গায়ে টাচই করিনি। একবারের জন্যও তার টিশার্টে হাত দেইনি এবং সে যে পরিমাণ বাজে ভাষা ব্যবহার করেছে আমি টু শব্দটিও করিনি। সে উগ্র আচরণের এটা সবাই জানে। তার ব্যবহার সম্পর্কে সবাই অবগত। সে ইন্সট্যান্ট যে পরিমাণ মুখ খারাপ করে গালি আমাকে দিয়েছে, সেগুলো ধরলে বড় আকারে সিনক্রিয়েট হয়ে যেত। আয়োজন সুন্দর করার ক্ষেত্রে কোনো কম্প্রোমাইজ নাই। এখানে সে কেন, রাকসু ভিপিকে অনুরোধ করে ডানপাশে বসিয়েছি যাতে বামদিকের বোনেরা খেলা দেখতে পারে।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর