বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ঢাকা

নীরব ছাত্রদল

জাবিতে জুলাই হামলায় অভিযুক্তদের শাস্তি কমালো প্রশাসন, ৩ সংগঠনের নিন্দা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, জাবি
প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ১০:০৫ পিএম

শেয়ার করুন:

জাবিতে জুলাই হামলায় অভিযুক্তদের শাস্তি কমালো প্রশাসন, ৩ সংগঠনের নিন্দা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও মদদদাতা হিসাবে অভিযুক্ত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চূড়ান্ত শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তিন ছাত্রসংগঠন।

পৃথক বিবৃতিতে জাতীয় ছাত্রশক্তি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে ‘আপসমূলক’, ‘প্রহসনমূলক’ ও ‘অপরাধীদের দায়মুক্তি দেওয়ার প্রচেষ্টা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে একই ইস্যুতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


বিজ্ঞাপন


মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোর সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা শেষে জুলাই হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ১৯ শিক্ষক ও দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হয় বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।

c2e58b7c-a56e-46a8-b807-2bf10b7ce232

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একজন শিক্ষককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকজনের পদাবনতি, বেতন স্কেল হ্রাস ও সতর্কীকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাত শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সভায় হামলার ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৪৩ নেতাকর্মীর আপিল নিষ্পত্তি করে কয়েকজনকে অব্যাহতি এবং কয়েকজনের শাস্তির মেয়াদও কমানো হয়।

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের পর জাতীয় ছাত্রশক্তি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ এক বিবৃতিতে বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঘোষিত শাস্তি কোনোভাবেই ন্যায়বিচারের প্রতিফলন নয়, বরং এটি বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সংগঠনটির ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও দমন-পীড়নের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে 'নামমাত্র প্রশাসনিক ব্যবস্থা' নেওয়া হয়েছে এবং অনেককে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ব্যাহত হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


c03e5788-6fe7-4636-8f9b-8bd634f3356e

সংগঠনটি আরও বলেছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশের ওপর সরাসরি আঘাত হানা ঘটনার বিচার কেবল পদাবনতি, বেতন অবনমন বা সতর্কীকরণের মাধ্যমে শেষ হতে পারে না। তারা এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে জুলাই হামলার সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

একই ঘটনায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা পৃথক বিবৃতিতে প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে ‘গা বাঁচানো রায়’ এবং ‘অপরাধীদের আড়াল করার সুকৌশলী অপচেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেছে। শাখা সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও সেক্রেটারি মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, তা অভিযোগের গুরুত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তাদের দাবি, অধিকাংশ অভিযুক্তকে কার্যত দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং বাকি যাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে, তা প্রতীকী মাত্র। তারা অবিলম্বে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

51cbb3a1-355c-44c2-b888-85b9d6b010fc

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদও প্রশাসনের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। সংগঠনটি বলেছে, হামলার সময় প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে প্রশাসন 'আপসমূলক অবস্থান' নিয়েছে। বিশেষ করে তৎকালীন প্রক্টরের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা এবং তৎকালীন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও ট্রেজারারের বিষয়ে পৃথক 'স্ট্রাকচারাল কমিটি' গঠনের সিদ্ধান্তকে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার কৌশল বলে দাবি করেছে তারা। সংগঠনটির মতে, প্রকৃত দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত না হলে এই বিচার গ্রহণযোগ্য হবে না।

তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় প্রায় সব ছাত্র সংগঠন বিবৃতি দিলেও, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অবস্থান জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ‘জুলাই হামলায় জড়িতদের বিষয়ে গতকাল সিন্ডিকেট যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বলে আমরা মনে করি। বিষয়টি নিয়ে আমরা দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার কোনো সুযোগ আছে কি না, সে বিষয়ে মতামত নেওয়ার পর আমাদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হবে।’

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট জুলাই হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের তদন্ত শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। একই সভায় হামলার ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আপিলও নিষ্পত্তি করা হয়।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর