ছাত্রশিবির কর্তৃক গুম ও অপহরণের নাটক সাজিয়ে প্রকৃত গুমের শিকার ব্যক্তিদের অবমাননা, অনলাইনে সংঘবদ্ধভাবে সরকারকে মিথ্যা দোষারোপ এবং গুপ্ত নেতাকর্মীদের মাধ্যমে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শাখা ছাত্রদল।
রোববার (১৪ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কে আর মার্কেটে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিজ্ঞাপন
শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূমিকম্প ও অগ্নিনিরাপত্তা মহড়া
সমাবেশে বক্তব্য দেন বাকৃবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘গুম, অপহরণ, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিথ্যা বয়ান নির্মাণ এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শুধু রাজনৈতিক অনৈতিকতারই বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং প্রকৃত ভুক্তভোগীদের প্রতি চরম অবমাননার শামিল। যারা সংকীর্ণ স্বার্থসিদ্ধির লক্ষ্যে মানবিক ট্র্যাজেডিকে নাট্যরূপ প্রদান করে, তারা মূলত সত্য, ন্যায়বিচার এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিপন্থী অবস্থান গ্রহণ করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন অপরিহার্য, তেমনি সেই স্বাধীনতার অপব্যবহার করে অপপ্রচার, গুজব এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি ছড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিশেষত নারী নির্যাতন, ধর্ষণ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে রাজনৈতিক কৌশলের উপাদানে পরিণত করা জাতির নৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করে।’
বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল বিশ্বাস করে, সত্যের প্রতি অবিচল আনুগত্য, ন্যায়বিচারের প্রতি শ্রদ্ধা এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারই একটি সুস্থ সমাজ নির্মাণের পূর্বশর্ত। আমরা সকল প্রকার সহিংসতা, নারী নির্যাতন, অপপ্রচার ও অসত্য তথ্যের রাজনীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছি এবং প্রত্যাশা করি যে, সংশ্লিষ্ট সকল ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা হবে।’
সমাবেশে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গুম, অপহরণ, নারী নির্যাতন ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।




