বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ সুবিধা প্রদানে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য আর্থিক ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে এই খাতে বার্ষিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫৬ কোটি টাকা। পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত প্রায় ৪৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদের লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বিজ্ঞাপন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনের কার্যক্রম পরিচালনা করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. গোলাম রছুলের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের বার্ষিক আয় প্রায় ৬৮৪ কোটি টাকা। এর বিপরীতে অবসরকালীন সুবিধা প্রদানে প্রয়োজন হচ্ছে প্রায় ৮৪০ কোটি টাকা। ফলে প্রতি বছর প্রায় ১৫৬ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসিক বেতনের ৪ শতাংশ চাঁদা এবং বিনিয়োগ আয় থেকে এই ট্রাস্ট পরিচালিত হয়। তবে বেতন কাঠামোর বার্ষিক প্রবৃদ্ধির কারণে সুবিধা প্রদানের দায়ও ক্রমাগত বাড়ছে, যার ফলে আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪৪ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তি করতে এককালীন প্রায় ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।
আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ২৮৪ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে ৫৫৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকার বেশি কল্যাণ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জমাকৃত আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করে ‘আইবাস প্লাস প্লাস’পদ্ধতিতে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ২০২৩ সালের জুন ও জুলাই মাসের আবেদন নিষ্পত্তির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং বাকি আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান নিয়ে সরকার কাজ করছে।
টিএই/এএইচ




