বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ঢাকা

 অভ্যন্তরীণ কোন্দল: বাউবি থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো এমাজউদ্দীনের মেয়েকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম

শেয়ার করুন:

 অভ্যন্তরীণ কোন্দল: বাউবি থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো এমাজউদ্দীনের মেয়েকে
ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মরহুম অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীনকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং কেনাকাটায় অনিয়মের আশঙ্কাজনক ফাইলে স্বাক্ষর না করায় তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে এই সিদ্ধান্তের কথা বলা হলেও নেপথ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন 'সাদা দল’ এর কোন্দল এবং একজন প্রভাবশালী শিক্ষকের হস্তক্ষেপ রয়েছে। 


বিজ্ঞাপন


প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রো-ভিসি পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বাউবি সূত্রে জানা গেছে, বিগত এক বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চলছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। তাঁর সঙ্গে ট্রেজারার হিসেবে যুক্ত হন ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম, যিনি ঢাবির সাদা দলের অন্যতম নেতা মোর্শেদ হাসানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। পরবর্তীতে গত ১৪ মে ড. শামীম পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান।

এই কর্মকর্তাদের মেয়াদে বাউবিতে বেশ কিছু অবকাঠামো উন্নয়নমূলক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। তবে এসব প্রকল্পের কেনাকাটা ও নথিপত্রে মোটাদাগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন ওই ফাইলগুলোতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি একটি ফাইলে শর্ত জুড়ে দেন এবং অন্য একটির জন্য 'ফিজিবিলিটি স্টাডি' বা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেন। শর্ত পূরণ না করেই ফাইলগুলোতে স্বাক্ষর করার জন্য তাঁর ওপর নানামুখী চাপ দেওয়া হলেও তিনি অনড় থাকেন। ফলে প্রকল্প দুটি আটকে গিয়ে বাউবিতে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়, যা মূলত তাঁর অপসারণের সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করেছে।

পদচ্যুতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন বলেন, ‘আমাকে কেন সরানো হয়েছে সেটি সরকার ভালো বলতে পারবে। আমার জানামতে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে আমি যুক্ত ছিলাম না। বরং কিছু ফাইলে স্বাক্ষর করতে আমি শর্ত জুড়ে দিয়েছিলাম, যেগুলোতে দুর্নীতি হওয়ার শঙ্কা ছিল। সেটাই (অপসারণের) কারণ কি-না আমি জানি না।’ 


বিজ্ঞাপন


অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রসঙ্গে ড. নাজনীন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সময়ে সাদা দলের ব্যানারে আমরা একসঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করেছি। সামনের সারির একমাত্র নারী সদস্য হিসেবে আমি সাদা দলের প্রোগ্রাম করতাম। তাই নীতিগত দ্বন্দ্বের কিছু নেই, এখানে ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতির বিষয় থাকতে পারে।’ 

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাউবির বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান খানের পক্ষেও এই দ্বন্দ্ব মেটানো সহজ ছিল না। কারণ, উন্নয়ন প্রকল্পের পেছনে থাকা কর্মকর্তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী শিক্ষকের আশীর্বাদপুষ্ট।

ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীনের পিতা অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ দেশের একজন খ্যাতনামা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য। বিএনপি সরকারের আমলে ১৯৯২ সালে তিনি ঢাবির উপাচার্য হন এবং একই বছর একুশে পদক লাভ করেন। বিজ্ঞ এই শিক্ষাবিদ বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত ছিলেন।

এসএইচ/ক.ম 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর