গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জাকসু নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন আব্দুর রশিদ জিতু এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ভিপি এবং জিএসের ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং জিএস মাজহারুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তারা দুজনেই জাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে এক বছর ড্রপ দিয়েছিলেন।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচিত হওয়ার পর মাজহার তার পরবর্তী ব্যাচের সঙ্গে থিসিস জমা দিয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তবে জিতু তার স্নাতকোত্তর পরীক্ষার ৫০৪ নম্বর কোর্স নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হওয়ায় তার বৈধ ছাত্রত্ব হারিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ম অনুযায়ী স্নাতক সম্পন্ন করতে চার বছরের সঙ্গে অতিরিক্ত দুই বছর এবং স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করতে এক বছরের কোর্সের সঙ্গে অতিরিক্ত এক বছর দেওয়া হয়।
তবে এ নিয়মে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ছাত্রত্বের বৈধতা হারিয়েছেন জাকসু ভিপি জিতু। তিনি তার বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের সঙ্গে স্নাতকোত্তর শেষ করতে পারেননি।
অন্যদিকে গত মাসে অর্থাৎ মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের সঙ্গে থিসিস জমা দিয়ে ছাত্রত্ব শেষ করেন জাকসু জিএস মাজহার।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্নাতকোত্তর পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার ৭ দিনের মধ্যে ক্লিয়ারেন্স শেষে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পরই ছাত্রত্ব শেষ বলে গণ্য হবে এবং এটা ফলাফলের উপর নির্ভর করবে না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করতে না পারলে সেটি অনিয়মিত নয় বরং বিশেষ হিসেবে বিবেচিত হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক শামীমা সুলতানা বলেন, ‘জিতুর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি কোর্সের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। তাকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করতে বিধি অনুযায়ী বিশেষ পরীক্ষা দিতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ রায়হান শরীফ বলেন, ‘জাকসুর জিএস মাজহার তার একাডেমিক কার্যক্রম শেষ করেছে। এখন ফলাফল প্রকাশ করা বাকি রয়েছে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং জাকসুর সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘আমি সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।’
এএইচ




