বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহ-প্রধান পদের মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) দ্রুত শুরুর দাবি জানিয়েছেন উত্তীর্ণ প্রার্থীরা।
শুক্রবার (৫ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘৮ম এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহ-প্রধান পদের ভাইভা প্রত্যাশী শিক্ষকবৃন্দ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। উৎপাদনমুখী ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, তার সঙ্গে শিক্ষক সমাজ একাত্মতা প্রকাশ করছে এবং বাস্তবায়নে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করছে।
ভাইভা প্রত্যাশীরা বলেন, এ পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সৎ, যোগ্য, মেধাবী এবং আধুনিক প্রযুক্তি-জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ শিক্ষা প্রশাসক ও নেতৃত্ব প্রয়োজন। এই লক্ষ্য সামনে রেখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহ-প্রধান নিয়োগের দায়িত্ব কেন্দ্রীয়ভাবে এনটিআরসিএর মাধ্যমে সম্পন্ন করার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তাদের মতে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহ-প্রধান নিয়োগে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির সংস্কৃতি দূর করার ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শিক্ষক সমাজের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাও ছিল এমন একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগ প্রক্রিয়া।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১৮ এপ্রিল এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহ-প্রধান পদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ২২ এপ্রিল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। পরীক্ষায় প্রায় ৫৩ হাজার প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে ১৪ হাজার ৯৪২ জন উত্তীর্ণ হন।
বক্তারা জানান, বিশেষজ্ঞ প্যানেল প্রণীত সিলেবাস অনুসারে প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করা হয় এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি (বুয়েট)। পুরো লিখিত পরীক্ষা প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্তভাবে সম্পন্ন হলেও উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণে অযৌক্তিক বিলম্ব হচ্ছে, যা তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের কার্যক্রম শুরু করে চূড়ান্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মো. আমজাদ হোসেন, মফিজুল ইসলাম, মো. তারিকুল ইসলাম, মো. রুহুল আমিনসহ অন্যান্য ভাইভা প্রত্যাশী শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
এম/ক.ম




