শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ঢাকা

‘কলেজগুলোতে অনার্স কোর্সে গুণগত মান না থাকলে ব্যবস্থা’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ জুন ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম

শেয়ার করুন:

‘কলেজগুলোতে অনার্স কোর্সে গুণগত মান না থাকলে ব্যবস্থা’
‘কারিকুলামে দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা অন্তর্ভুক্তিকরণ বিষয়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম’ উপলক্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ সম্মেলন।  ছবি: সংগৃহীত

অনার্স কোর্স পরিচালনায় প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ কলেজগুলোর বিরুদ্ধে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
 
শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর কার্যালয়ে ‘কারিকুলামে দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা অন্তর্ভুক্তিকরণ বিষয়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য এ হুঁশিয়ারি দেন।

উপাচার্য জানান, দেশের বিভিন্ন সময়ে নানা কারণে অনেক কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু হয়েছে। তবে সব প্রতিষ্ঠানে সমমানের শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে কলেজগুলোর র‌্যাংকিং ও মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।


বিজ্ঞাপন


অধ্যাপক আমানুল্লাহ বলেন, সারা দেশের কলেজগুলোর তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের কাজ চলছে। মাঠপর্যায়ের প্রায় ৯০ শতাংশ তথ্য ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে এসেছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে কোন কলেজে প্রয়োজনীয় শিক্ষক, অবকাঠামো ও শিক্ষার পরিবেশ রয়েছে এবং কোনগুলোতে এসবের ঘাটতি আছে।

ড. আমানুল্লাহ বলেন, গত দুই বছর ধরে বিভিন্ন কলেজকে শিক্ষকসংখ্যা বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কিছু প্রতিষ্ঠান এখনও প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ঘটাতে পারেনি। সেসব কলেজকে আরও সময় দেওয়া হবে। এরপরও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বলেন, কিছু ক্ষেত্রে কোনো কোনো বিষয়ে ১৫ জন শিক্ষক থাকলেও শিক্ষার্থী রয়েছে মাত্র তিনজন। এ ধরনের পরিস্থিতি রাষ্ট্রীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহার ও সুশাসনের ক্ষেত্রে উদ্বেগের বিষয়। করদাতাদের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট প্রসঙ্গেও কথা বলেন উপাচার্য। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীপ্রতি সরকারি ব্যয়ের হিসাব নিয়ে একটি বিভ্রান্তি রয়েছে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের সরাসরি বরাদ্দ বিবেচনা করলে ব্যয় কম মনে হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতনসহ সামগ্রিক সরকারি ব্যয় হিসাব করলে শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয়ের পরিমাণ অনেক বেশি।


বিজ্ঞাপন


এ সময় উপাচার্য জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব অনার্স ও মাস্টার্স প্রোগ্রামে ধাপে ধাপে কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বিষয়ভেদে নয়, প্রায় সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা হবে।

ড. আমানুল্লাহ বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬০ শতাংশ উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি ইনকোর্স পরীক্ষার জবাবপত্র মূল্যায়ন ও তদারকি কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার মান, একাডেমিক শৃঙ্খলা এবং জবাবদিহি আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলামসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এম/ক.ম 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর