মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ঢাকা

হলের ছাদ খসে অল্পের জন্য প্রাণ রক্ষা

আর দুই কদম এগোলেই হয়ত বাঁচতাম না: চবি শিক্ষার্থী

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, চবি
প্রকাশিত: ০২ জুন ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম

শেয়ার করুন:

আর দুই কদম এগোলেই হয়ত বাঁচতাম না: চবি শিক্ষার্থী

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাহজালাল হলে ছাদের কংক্রিটের বড় একটি অংশ খসে পড়ে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন এক আবাসিক শিক্ষার্থী। এতে করে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের মূল ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়া শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রায়হান অ্যাকাউন্টিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং হলের আবাসিক ছাত্র।


বিজ্ঞাপন


রায়হান বলেন, আর এক-দুই কদম সামনে এগোলেই হয়ত আজ একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হতাম, হয়ত বাঁচতাম না। আমি এখনো ট্রমাটাইজড অবস্থায় আছি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, হল থেকে বের হওয়ার সময় দ্বিতীয় তলার ছাদের সিলিং থেকে বড় আকারের একটি কংক্রিটের আস্তরণ খসে পড়ে। টুকরাটি তার থেকে মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে পড়ে এবং মাটিতে আঘাত লেগে ভেঙে যায়।

dd7534f6-ea6d-4db2-ae5c-9ec7ebc4c62e

তবে এ ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছেন না শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হলটির বিভিন্ন অংশে পলেস্তারা ও কংক্রিট খসে পড়ার ঘটনা ঘটলেও ভবনের ফিটনেস মূল্যায়ন ও সংস্কার কার্যক্রম দৃশ্যমানভাবে এগোয়নি। ফলে প্রতিদিনই নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করতে হচ্ছে শত শত শিক্ষার্থীকে।


বিজ্ঞাপন


হল ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) আলাউদ্দীন সন্দ্বীপী বলেন, এটি প্রথম ঘটনা নয়। কয়েক মাস আগে এক শিক্ষার্থীর ঘাড়ে পলেস্তারা খসে পড়েছিল। এছাড়া হলের বিভিন্ন স্থানে ছাদের আস্তরণ খসে পড়ার ঘটনা ঘটছে। কিন্তু স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

তিনি বলেন, গত দেড় বছর ধরে হলের ফিটনেস টেস্টের কথা শুনে আসছি। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একাধিকবার বিষয়টি তুলে ধরা হলেও কার্যকর অগ্রগতি দেখা যায়নি। আজ বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় কে নিত?

84f466ac-e7ba-4c83-8d78-7640d3c43160

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুরোনো ভবনের বিভিন্ন অংশে দৃশ্যমান ক্ষয় থাকলেও নিয়মিত ঝুঁকি মূল্যায়ন ও সংস্কার না হওয়ায় তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

তবে হল প্রশাসনের দাবি, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ফুয়াদ হোসেন বলেন, হলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আগেই রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। ভবনটি ব্যবহার উপযোগী কি না, তা মূল্যায়নের জন্য প্রশাসন একটি কমিটি গঠন করেছে।

তিনি জানান, বিল্ডিং ফিটনেস অ্যাসেসমেন্টের কাজের দায়িত্ব চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে (চুয়েট) দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় বাজেট অনুমোদনের পর মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর