সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ঢাকা

ঢাবিতে কক্ষে ঢুকে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ মে ২০২৬, ০১:৫১ পিএম

শেয়ার করুন:

ঢাবিতে কক্ষে ঢুকে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলে দোকানে পা তুলে বসাকে কেন্দ্র করে এক প্রতিবন্ধী সিনিয়র শিক্ষার্থীকে কক্ষে ঢুকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। 

সোমবার (২৫ মে) ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভয় কুমার সিংহ এ অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন।


বিজ্ঞাপন


অভয় কুমার সিংহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২০-২০২১ সেশনের শিক্ষার্থী। অভিযোগে অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ঝলক দাস, রিপন, সাগর ও চন্দন। তাদের মধ্যে তিনজন ২০২১-২০২২ সেশনের এবং একজন অভয়ের ব্যাচমেট বলে জানা গেছে।

ফেসবুক পোস্টে অভয় জানান, ‘ভার্সিটির শুরুতে যখন আমি হলে উঠি তখন সন্তোষ চন্দ্র ভট্টাচার্য ভবনে উঠি। পায়ের সমস্যা থাকার পরেও অনেক কষ্ট করে আমি সেই বিল্ডিংয়েই অবস্থান করি। আমাদের ব্যাচমেটরা মিলে আমরা অনেক ভালোই ছিলাম। 

কিন্তু পরবর্তীতে রবীন্দ্র ভবন খুলে দেওয়ায় ব্যাচমেটদের ছেড়ে একটু কষ্ট লাঘব করার আশায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত রুমে উঠি। কিন্তু আজ ২৪ মে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ সন্ধ্যার সময় রবীন্দ্র ভবনের নিচে মনশ্রী হালদার চায়ের দোকানে পা তুলে বসে থাকার মতো একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝলক দাস (২০২১-২২ জাপানিজ স্টাডিস), চন্দন (২০২০-২১ ফ্রেঞ্চ ল্যাংগুয়েজ) রিপন (২০২১-২২ মার্কেটিং বিভাগ ) ও সাগর (২০২১-২২ ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ) আমার রুমে এসে আমাকে সংঘবদ্ধভাবে মারধর করেছে। ’

তিনি আরও বলেন, ‘শুরুতে আমি যখন চায়ের দোকানে বসে ছিলাম তখন কেউ না থাকায় আমি পা তুলে বসে ছিলাম, পায়ের হাঁটুতে সমস্যা থাকার কারণে। তখন চন্দন নামের এক ছেলে আর ঝলক দোকানে ঢুকে বসে। আমি পা তুলে দেওয়ার পরেও অনেক জায়গা থাকায় তারা ঠিকভাবেই বসতে পারে। পরবর্তীতে চন্দন নামের ছেলেটা আমাকে বলে পা নিচে নামিয়ে বসতে, এটা পা উপরে তোলার জায়গা না, নিজের রুমে গিয়ে পা তুলে বস ইত্যাদি কথা বলে। পরে অপর পায়ে বেশি সমস্যা থাকায় আমি একটি পা নিচে নামিয়ে রাখি।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘এছাড়া ঝলকের (অভিযুক্ত) সাথে দোকানে আমার কোনো কথাই হয় নি। পরবর্তীতে সেখান থেকে আনন্দ বাজার যাই। আনন্দ বাজার থেকে আসার পর রুমে ঢোকা মাত্রই চন্দন, ঝলক দাশ, রিপন, সৌরভ এই চারজন রুমে এসে আমার উপর শারীরিক নির্যাতন করে, চড়-থাপ্পড় মারে। এছাড়াও হুমকি দিয়েছে যাতে আমাকে আর চায়ের দোকানে না দেখে। ’

তিনি আক্ষেপ করে লিখেন, ‘একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর রুমে গিয়ে এভাবে হামলা করা শুধু অমানবিকই নয়, এটি জগন্নাথ হলের মানবিক পরিবেশের জন্যও অত্যন্ত লজ্জাজনক।’ পাশাপাশি তিনি দোষীদের বিচার দাবি করেন। 

এ বিষয়ে জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক দেবাশীষ পাল জানান, ‘ঘটনাটি জানার পর ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. শিমুল হালদারকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর পাঠানো হবে।’

তবে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এম/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর