বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

সংবিধান সংশোধন ও ইসলামি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম

শেয়ার করুন:

সংবিধান সংশোধন ও ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি
জাতীয় প্রেসক্লাবে কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র বাতিল করে ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার সব স্তরে ইসলামি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং কওমি শিক্ষার স্বকীয়তা রক্ষাসহ ১৮ দফা দাবি জানিয়েছে কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদ। একই সঙ্গে শরিয়াহ আদালত প্রতিষ্ঠা, ধর্ম অবমাননাবিরোধী আইন প্রণয়ন এবং কওমি মাদরাসার আইনি সুরক্ষার দাবিও জানানো হয়।

সোমবার (১৮ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী এসব দাবি উত্থাপন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, সহসভাপতি মাওলানা আব্দুল বাসেত খান ও মাওলানা আলী আজম, মহাসচিব মাওলানা মুস্তাকীম বিল্লাহ হামিদী, মাওলানা মেরাজুল হক মাযহারী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি দ্বীন মুহাম্মদ আশরাফ, মাওলানা লুৎফুর রহমান ফরায়েজী, মুফতি রেজওয়ান রফিকী, মাওলানা নজরুল ইসলাম এবং মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি বলেন, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য সংবিধানে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তাদের দাবি, ১৯৭২ সালের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র সংযোজন জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ছিল না। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র হিসেবে ইসলামী শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলামী শিক্ষাকে প্রান্তিক করে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা না হলে নতুন প্রজন্ম দ্বীনি জ্ঞান থেকে দূরে সরে যাবে। একই সঙ্গে কওমি মাদরাসা শিক্ষার স্বাধীনতা ও বিশেষায়িত চরিত্র অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানান তারা।

তারা অভিযোগ করেন, কওমি শিক্ষাকে ‘সংস্কার’ করার নামে এর স্বকীয়তা নষ্টের চেষ্টা চলছে। কওমি শিক্ষাব্যবস্থাকে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে একীভূত করার যেকোনো উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানিয়ে নেতারা বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের শীর্ষ আলেম ও কওমি বোর্ডগুলোর মতামত নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে কওমি মাদরাসাগুলোর সামাজিক ও আর্থিক অবদানের বিষয়ও তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, সরকারি অনুদান ছাড়াই কওমি মাদরাসাগুলো দরিদ্র ও এতিম শিক্ষার্থীদের আবাসন, খাদ্য ও ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া কোভিড-১৯ মহামারির সময় কওমি আলেমদের ভূমিকারও প্রশংসা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে সংগঠনের নেতারা গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি তাদের দাবির পক্ষে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

এমআর/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর