শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ঢাকা

‘কোরআন-হাদিসের আলোকে বিজ্ঞান ব্যবহার করা সময়ের দাবি’ 

ঢাকা মেইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম

শেয়ার করুন:

‘কোরআন-হাদিসের আলোকে বিজ্ঞান ব্যবহার করা সময়ের দাবি’ 

কোরআন-হাদিসের আলোকে বিজ্ঞানকে ব্যবহার করে মুসলিমদের জাগিয়ে তোলা সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ বি এম ছিদ্দিকুর রহমান খান। দারুননাজাত একাডেমির তৃতীয় ইবনে সিনা বিজ্ঞান মেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শুক্রবার (১৫ মে) সকালে একাডেমিতে এ অনুষ্ঠান হয়। 

ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, ‘মুসলিম সমাজের বড় একটি অংশ আধুনিক বিজ্ঞান থেকে দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে। পবিত্র কোরআন ও প্রিয় রাসুলের হাদিসের আলোকে বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি, পদ্ধতি ও প্রয়োগ পুনর্বিন্যাস করে তাদের জাগিয়ে তোলা সময়ের দাবি। মুসলিমদের বিজ্ঞান চর্চা মানে পশ্চিমা বিজ্ঞানকে প্রত্যাখ্যান নয়, বরং এর সঙ্গে ইসলামি মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটানো।’


বিজ্ঞাপন


সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী বলেন, ‘আজকের বিজ্ঞান শিক্ষা ব্যাপকভাবে পশ্চিমা মডেলের ওপর নির্ভরশীল, তাই সেখানে ইসলামি দার্শনিক তত্ত্বের মাধ্যমে ভারসাম্য আনা জরুরি। এটি আমাদের পরিবেশ, সামাজিক ন্যায়বিচার ও নৈতিকতার প্রতি দায়িত্বশীল করে তুলবে।’ 
 
সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহীন আহমেদ বলেন, ‘বিজ্ঞানের আজকের উত্থান ও উন্নয়নের পেছনে মৌলিক ভূমিকা পূর্ববর্তী মুসলিম মনীষীদের। বিজ্ঞানকে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছানোর গোড়ার কারিগর তারা। মুসলিমদের কাছে বর্তমান বিশ্ব শুধু ঋণী নয় বরং বিজ্ঞানের উত্থানে মুসলমানদের সংস্কৃতিও বেশ প্রভাব রেখেছে। আধুনিক বিজ্ঞানের পথের সূচনায়ও রয়েছে মুসলমানদেরই অবদান।’

দারুননাজাত একাডেমির সিইও নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘মুসলিমদের হাতে যতদিন জ্ঞান-বিজ্ঞান ছিল ততদিন নেতৃত্বেও তারাই ছিল। দেখেুন, ফেসবুক তৈরি করেছেন মার্ক জাকারবার্গ। ভালো দিকের পাশাপাশি বর্তমানে ফেসবুকের অসংখ্য বাজে দিকও রয়েছে। যদি কোনো মুসলিম বিজ্ঞানী ফেসবুক তৈরি করতেন তাহলে অন্তত কিছু নেতিবাচক দিক থেকে বাঁচা যেত। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকেও বাঁচানো যেত।’

নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী এখন ভয়াবহ রোগ ক্যানসার। আমরা যদি ক্যানসারের শতভাগ  সুচিকিৎসা উদ্ভাবন করতে পারি তাহলেও জগৎ মুসলিমদের স্মরণে রাখবে। অসুমলিমরা জ্ঞান–বিজ্ঞানকে প্রতিনিয়ত কাজে লাগিয়ে বাধা–বিপত্তিকে জয় করছে। এদিক থেকে বর্তমানে মুসলিমরা পিছিয়ে। এমনকি করোনা মহামারির সময়ও মুসলিমরা স্মরণীয় কিছু করতে পারেনি। অথচ প্রয়োজন ছিল।’

বিজ্ঞান মেলায় উপস্থাপিত কয়েকটি প্রজেক্ট হলো: গ্রাভিটি এনার্জি প্রোজেক্ট (মাধ্যাকর্ষণ শক্তি প্রকল্প) — এই প্রকল্পে দেখানো হয়েছে কীভাবে মাধ্যাকর্ষণ বল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা যায়। উঁচুতে রাখা ভার নিচে নামার সময় মোটর ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করে। এটি নবায়নযোগ্য শক্তির একটি সহজ ও কার্যকর উদাহরণ। 


বিজ্ঞাপন


হিউম্যান রেসপিরেটরি সিস্টেম (মানুষের শ্বসনতন্ত্র) — এই মডেলে মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া দেখানো হয়েছে। নাক দিয়ে বায়ু প্রবেশ করে ফুসফুসে পৌঁছে, যেখানে অক্সিজেন রক্তে মিশে যায় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বের হয়ে আসে। ডায়াফ্রাম এই পুরো প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

বায়োগ্যাস প্রোডাকশন (বায়োগ্যাস উৎপাদন) — এই প্রকল্পে দেখানো হয়েছে কীভাবে গোবর ও জৈব বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস তৈরি করা হয়। অক্সিজেনবিহীন পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া বর্জ্য পচিয়ে মিথেন গ্যাস উৎপন্ন করে। এই গ্যাস রান্না ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা যায় এবং অবশিষ্টাংশ জৈব সার হিসেবে কাজে লাগে। 

আইওটি বেইজড হোম অটোমেশন (আইওটি ভিত্তিক স্মার্ট হোম অটোমেশন) — এই প্রকল্পে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঘরের লাইট ও ফ্যান দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। মাইক্রোকন্ট্রোলার ও ইন্টারনেটের সাহায্যে এটি কাজ করে। এটি সময় ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে এবং ঘরকে আরও স্মার্ট ও নিরাপদ করে তোলে।

ফায়ার ফাইটিং রোবট কার (অগ্নিনির্বাপক রোবট কার) — এই রোবটটি আগুন শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভাতে পারে। এতে ফ্লেম সেন্সর, পানির পাম্প এবং মোটরচালিত গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে। এটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে মানুষের পরিবর্তে কাজ করে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করতে পারে। -বিজ্ঞপ্তি 

ক.ম/ 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর