কোরবানির ঈদ এগিয়ে এলে দেশের পশুর হাটগুলো গবাদিপশুর বৈচিত্র্যময় প্রদর্শনীতে পরিণত হয়। লাল রঙের মাঝারি আকৃতির গরু থেকে শুরু করে সাদা-ধূসর বর্ণের বিশাল ষাঁড় সবই নজর কাড়ে ক্রেতাদের। কেবল আকার নয়, এখন ক্রেতারা গরুর জাত, স্বাস্থ্য ও মাংসের গুণাগুণ বিবেচনা করছেন। ফলে জেলাভিত্তিক বিশেষ জাতের গরুর চাহিদা বাড়ছে।
বাংলাদেশের গরুর বৈচিত্র্য ও জনপ্রিয় জাত নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদ।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, দেশে কোরবানির পশুর প্রায় ৫০ শতাংশই ২০০ থেকে ২৫০ কেজি ওজনের দেশীয় জাতের। এর মধ্যে অন্যতম পরিচিত হলো চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটির ‘রেড চিটাগাং ক্যাটল’ (আরসিসি)। লাল রঙের এই গরু মাঝারি আকারের এবং এর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। বাজারে মাঝারি ওজনের গরুর চাহিদা থাকায় আরসিসি জাতটি ব্যাপক জনপ্রিয়।
মুন্সিগঞ্জ জেলার বিশেষ জাত ‘মিরকাদিম’ গরু চর্বিমুক্ত মাংসের (লিন মিট) জন্য বিখ্যাত। ২০০-৩০০ কেজি ওজনের এই জাতটি পুরান ঢাকার মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। অন্যদিকে ডেইরি অঞ্চল পাবনায় বিকশিত হয়েছে ‘পাবনা ক্যাটল’। মূলত দুধের জন্য পরিচিত হলেও এই জাতের সাদা বা ছাই রঙের ষাঁড়গুলো কোরবানির বাজারে উচ্চবিত্ত ও ব্যবসায়ীদের প্রথম পছন্দ। এদের গড় ওজন হয় ৪৫০-৫০০ কেজি।
বগুড়ার কাহালু ও সারিয়াকান্দিতে উদ্ভাবিত ‘নর্থ বেঙ্গল গ্রে’ (এনবিজি) জাতটিও নজরকাড়া। সাদা গায়ের রঙের ওপর কালো গলার এই গরুর ওজন ও গড়ন আরসিসি জাতের মতোই, যা দেশজুড়ে সমাদৃত।
মাংসের গুণগত মান নিয়ে ড. আজাদ বলেন, ‘চর্বিযুক্ত সুস্বাদু মাংসের জন্য পাবনা ক্যাটল সেরা। তবে যারা চর্বিহীন মাংস খুঁজছেন, তাদের জন্য মিরকাদিম গরু সবচেয়ে উপযোগী।’
বিজ্ঞাপন

বাজেটের বিষয়ে তিনি পরামর্শ দেন, যারা অংশীদারিত্বে বা নির্দিষ্ট বাজেটে ভালো গরু কিনতে চান, তাদের জন্য রেড চিটাগাং ক্যাটল (আরসিসি) এবং নর্থ বেঙ্গল গ্রে (এনবিজি) সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব আঞ্চলিক জাত সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা গেলে দেশের গবাদিপশু খাত জাতীয় অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখবে।
প্রতিনিধি/একেবি




