সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ঢাকা

সাজিদ হত্যার বিচারের দাবিতে ইবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ১১ মে ২০২৬, ০২:১৩ এএম

শেয়ার করুন:

সাজিদ হত্যার বিচারের দাবিতে ইবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহ হত্যার ২৯৭ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। রবিবার (১০ মে) বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করে তারা। এ সময় ‘জাস্টিস ফর সাজিদ আব্দুল্লাহ’ প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক শেখ সাজ্জাতুল্লাহর সভাপতিত্বে শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, তালাবায়ে আরাবিয়া, তালামীযে ইসলামিয়া ও বাগছাসের নেতৃবৃন্দ, সাজিদের সহপাঠীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘বর্তমান প্রশাসনের ন্যূনতম সদিচ্ছা নেই সাজিদ হত্যার বিচার করার। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি স্টেকহোল্ডার এখন অনিরাপদ। যখন খুনিরা দেখছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সাজিদকে হত্যা করার পরেও তারা পার পেয়ে যাচ্ছে, তখন তারা আরও সাহস সঞ্চার করেছে—যার ফলাফল রুনা ম্যাম হত্যাকাণ্ড। আমাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে, হয়তো সাজিদ হত্যাকারীদের সঙ্গে প্রশাসনের একটি লিয়াজোঁ বা যোগসাজশ থাকতে পারে। কারণ তারা বড় বড় ইভেন্টে কখনোই সাজিদের নাম নেয় না। সাজিদের নামে হল করার কথা থাকলেও তা করেনি। প্রশাসনের পরিকল্পনা হচ্ছে ইবি থেকে সাজিদের স্মৃতি ভুলিয়ে দেওয়া। এ ছাড়া সাজিদের পরিবারকে যে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ছিল, তা কেন দেওয়া হলো না, আমরা তা জানতে চাই। যদি আপনাদের পক্ষে এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হয়, তাহলে নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করুন।’


বিজ্ঞাপন


শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, ‘প্রশাসন শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচার তো দূরের কথা, তারা বিচারের যে প্রাথমিক প্রক্রিয়া সেটাও শুরু করেনি। সেটি কবে থেকে শুরু করবে এবং কীভাবে করবে, তা আমাদের জানান। আপনারা যদি না জানাতে পারেন, তবে সংশ্লিষ্ট যারা পারে তাদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করুন। দায়িত্বে বসে থেকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতায় ভোগানোর কোনো মানে হয় না। আপনার সন্তান যদি হত্যার শিকার হতো, তবে আপনিও বিচারের দাবিতে মাঠে নামতেন। এই ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা যখনই বিচারের দাবিতে আসে, তখনই আপনারা ছলচাতুরি করে প্রসঙ্গ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে যতগুলো কলঙ্কজনক অধ্যায় ঘটেছে, একটারও আমরা স্পষ্ট সুরাহা পাইনি। ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি আল মুকাদ্দাস এবং অলিউল্লাহ আমাদের মাঝ থেকে গুম হয়েছেন, তাদের বিষয়ে আপনারা কোনো তথ্য দিতে পারেননি। আপনারা যদি শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহ এবং রুনা ম্যাম হত্যার বিচার করতে না পারেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারেন, তবে দায়িত্ব ছেড়ে দিন।’

শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবিদ আহমেদ বলেন, ‘শহীদ সাজিদকে নির্মমভাবে হত্যা করার ২৯৭ দিন অতিবাহিত হয়ে গেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি। আমি মনে করি প্রশাসন এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত; না থাকলে অবশ্যই এর একটা ব্যবস্থা তারা নিত। সাজিদ হত্যার বিচার না হলে আমি ব্যক্তিগতভাবে বা আমার দল প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা কেউ নিরাপদ নই। জীবনের ঝুঁকির কারণেই আমরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘সমাজকল্যাণ বিভাগের ম্যামকে নির্মমভাবে হত্যা করার পেছনে অস্থায়ীভাবে বিভিন্ন থোক বরাদ্দের নামে যে কাজগুলো করা হয়, তারই রেশ রয়েছে। আমরা বারবার নিষেধ করেছি এ ধরনের কোনো নিয়োগ যেন না হয়। তারপরও প্রশাসন স্থায়ী নিয়োগের ব্যবস্থা না করে বিশ্ববিদ্যালয়কে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।’

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর