বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ঢাকা

খুবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ মে ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম

শেয়ার করুন:

S
ছবিতে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খান

পিতামাতার পরই শিক্ষকের স্থান। তাদেরকে বলা হয় জাতি গড়ার কারিগর। ছাত্র হোক বা ছাত্রী- শিক্ষকের কাছে তারা সন্তানতুল্য। অথচ সেই শিক্ষকই যদি ছাত্রীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন, তবে তাদের প্রতি অভিভাবকদের বিশ্বাসের ভিত বালুর ঘরের মতোই ভেঙে পড়ে।

তবে পরিতাপের বিষয় হলেও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। তারই ধারাবাহিকতায় এবার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খানের বিরুদ্ধে শোনা যাচ্ছে ছাত্রীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, পেশাগত ক্ষমতার অপব্যবহার, পরকীয়া, স্ত্রী ও সন্তানদের ওপর শারীরিক-মানসিক নির্যাতনসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগের কথা।


বিজ্ঞাপন


সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রী মাহবুবা নাসরীন কেয়ার পাঠানো এক অভিযোগপত্র থেকে এমনই তথ্য জানা গেছে। এর আগেও গত ১৪ এপ্রিল ইমেইল এবং ২২ ফেব্রুয়ারি রেজিস্টার্ড ডাকযোগে একই বিষয়ে অভিযোগ জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ফলে বাধ্য হয়ে পুনরায় লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে বিভাগীয় প্রভাব খাটিয়ে একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখেন আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খান। অভিযোগপত্রে এই অধ্যাপককে নারীলোভী, পরকিয়া আসক্ত ও নির্যাতনকারী উল্লেখ করেছেন তার স্ত্রী।

তিনি দাবি করেছেন, ২০১৫ সালে পরকীয়া ও নির্যাতনের কারণে আমি সন্তানদের নিয়ে ঢাকা চলে আসি। পরবর্তীতে তিনি (অধ্যাপক আবু সাইদ) ক্ষমা চাইলে আমাদের বাসার ঠিকানায় ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আল মামুন ও অধ্যাপক সামিউল হকের উপস্থিতিতে পবিত্র কোরআন শরীফ ছুঁয়ে শপথ করেন যে, তিনি এমন কর্মকাণ্ড আর করবেন না। কিন্তু তিনি সেই অঙ্গীকার রক্ষা করেননি। ২০১৭ সালে খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক ছাত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি আমার নজরে আসে।

এতে আরও বলা হয়েছে, খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকাকালীনও তিনি অনুরূপ নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে অব্যাহতি পেয়েছিলেন বলে জানতে পেরেছি।


বিজ্ঞাপন


এছাড়া সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের দশম ব্যাচের এক ছাত্রীর সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক বর্তমানেও চলমান। ওই ছাত্রী ২০১৫ সালে পড়াশোনা সম্পন্ন করলেও ২০২৩/২০২৪ সালে জার্নাল/থিসিসের অজুহাতে নিয়মিত আমার বাসায় আসতেন এবং বেডরুমের দরজা বন্ধ করে মেয়ে এবং আবু সাঈদ দীর্ঘ সময় অবস্থান করতেন। এ ধরনের আচরণ আমার ও আমার সন্তানদের কাছে অত্যন্ত অস্বস্তিকর দৃষ্টিকটু হওয়ায় পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ সংক্রান্ত বিষয়টি গৃহশিক্ষক ও প্রতিবেশীদের সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণযোগ্য।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, নির্যাতনের ফলে তার ১৭ বছর বয়সি ছেলের কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১২ বছর বয়সি কন্যা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ট্রমায় ভুগছে। এছাড়া পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।

অভিযোগে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়, অতীতে প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। এমনকি দেশের অস্থির পরিস্থিতিতে বিদেশে চলে যাওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

অন্যদিকে বর্তমানে আদালতে ‘দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার’ সংক্রান্ত একটি মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও বাইরে ভিন্ন তথ্য প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী তার আবেদনে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দোষী প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত শিক্ষক যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মাহবুবা নাসরীন কেয়া বলেন, বিয়ের পর থেকেই যেকোনো ইস্যুতে সে আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। দাম্পত্য জীবনে অশান্তি এবং সন্তানের কথা ভেবে এগুলো নিয়ে কখনো মুখ খুলিনি। কিন্তু তার পরকীয়া এমন পর্যায়ে চলে গেছে যার কারণে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে বাধ্য হয়েছি। আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে। তাদের কেউ সে খোঁজখবর নেয় না। পল্লবীতে আমার কেনা ফ্লাটে সে বিভিন্ন সময় বাইরে থেকে নারী নিয়ে এসে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করে। এ কারণে আমি আমার বাসা ছাড়তেও বাধ্য হই। আমি তার বিষয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালে আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খানের নির্যাতনের পর তার খুলনার বাসায় কাজ করা বিথী নামের এক কাজের মেয়ে আত্মহত্যা করেন। সে সময় আমাদের ওই মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে আমরা বিষয়টি মীমাংসা করি।

এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে আবু সাঈদ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি একটি মিটিং এ আছি। আর এ সমস্ত বিষয়ে আমার আইনজীবী কথা বলবেন। আপনি চাইলে আমার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেন। পরবর্তীতে আইনজীবীর নম্বর নিয়ে তাকে কল দিলে রিসিভ করেননি তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, তার স্ত্রীর আনা অভিযোগের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে আমরা তাকে লিখিত জবাব দেওয়ার জন্য বলেছি। তিনি আরও বলেন, শুনেছি এ বিষয়ে তারা মামলাও করেছে। আমার মনে হয় আদালতের মাধ্যমেই এ বিষয়টার ফয়সালা হওয়া ভালো।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী আমাদের কাছে অভিযোগ দিলে আমরা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর