ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেস্টরুম ও গণরুমের মাধ্যমে অতীতে শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো নির্যাতনের বিচার এবং আবাসন সংকট নিরসনের দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর সাড়ে ১২টায় উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব দাবি তুলে ধরেন।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, ‘অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে গেস্টরুম ও গণরুমের নামে ভিন্নমতের শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এতে অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়েছে, কেউ কেউ পড়াশোনা শেষ করতেও পারেননি। এসব ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অতীত প্রশাসনের কাছেও একাধিকবার এই দাবি জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বর্তমান প্রশাসনের কাছে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের মাধ্যমে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধানের আহ্বান জানান তারা।’
নাহিদুজ্জামান শিপন অভিযোগ করেন, ‘একটি ছাত্রসংগঠন অতীতে এসব নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত থাকলেও এখন তা অস্বীকার করে উল্টো অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ বিষয়ে আমাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে, প্রয়োজনে সেসব উপস্থাপন করা হবে।’
বিজ্ঞাপন
আবাসন সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় পুরোপুরি আবাসিক না হওয়ায় প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সিট সংকটকে কেন্দ্র করে গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। তাই প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আসন বরাদ্দ এবং যাদের সিট দেওয়া সম্ভব নয়, তাদের জন্য আবাসনবৃত্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ‘গেস্টরুম ও গণরুমের নামে অতীতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা অনেকের জীবনে ভীতিকর অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি এবং কোনো সংগঠনের কর্মকাণ্ড যেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল থাকতে হবে।’
এম/এমআই



