জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ সালাম-বরকত হলে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার বিনিময়ে সার্ভিস প্রোভাইডারের কাছে 'চাঁদা' দাবির অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং হল ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাসুদ রানা মিষ্টুর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে ওই হলের ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগী ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার ‘বিজয়-এর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার দুপুরে হলে কারিগরি কাজ চলাকালে হল সংসদের জিএস মাসুদ রানা মিষ্টু তাদের এক কর্মীর কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেন। অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। এক পর্যায়ে কর্মীরা হেড অফিসে যোগাযোগ করলে অফিস থেকে সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে পুনরায় সংযোগ চালু করা হয়।
ভুক্তভোগী ওই ইন্টারনেট কর্মী জানান, তিনি হলে কাজ করার সময় এক শিক্ষার্থী তাকে জানান যে, হলে ইন্টারনেট সংযোগ সচল রাখতে বাৎসরিক ২৫ হাজার টাকা এবং প্রতি মাসে লভ্যাংশের ১৫ শতাংশ দিতে হবে। টাকা না দিলে হলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন ওই ব্যক্তির নাম মাসুদ রানা মিষ্টু এবং তিনি হলের ২৩৭ নম্বর কক্ষে থাকেন।
‘বিজয়’ প্রোভাইডারের আরেক কর্মী শুভ বলেন, ‘আমরা বেতনভুক্ত কর্মচারী। অফিসে যখন টাকা দাবির বিষয়টি জানাই, অফিস থেকে সরাসরি সংযোগ বন্ধ করে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীদের বারবার ফোন আসার কারণে আমরা বিষয়টি সবাইকে জানাতে বাধ্য হই।’
অভিযোগের বিষয়ে হল জিএস মাসুদ রানা মিষ্টু বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের সেবার কারণে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে ছিল, তাই নতুন নেট সংযোগ আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা তাদের কেবল বলেছি যে তারা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সেবা দিতে পারছেন না। এর বাইরে অন্য কোনো কথা হয়নি। চাঁদা দাবির অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনো অবগত নই। মিষ্টু যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, তাই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কেন্দ্রীয় সংসদের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শহীদ সালাম-বরকত হলের প্রভোস্ট ও হল সংসদের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল হালিম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাইনি। সাধারণত শিক্ষার্থীরাই নিজ উদ্যোগে ইন্টারনেট সংযোগ নেয়, এতে হল প্রশাসনের সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকে না। একটি কোম্পানি হঠাৎ সংযোগ বন্ধ করেছে বলে জেনেছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে কাজ করছি এবং হল সংসদের প্রতিনিধিদেরও বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
প্রতিনিধি/একেবি




