বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকদের পদোন্নতির আন্দোলনের কারণে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের সভাপতিত্বে তার বাসভবনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তাসহ আন্দোলনরত শিক্ষক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা কাটাতে শিক্ষকদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে পাঠদান শুরু করার বিষয়ে শিক্ষকরা নিজেরা সভা করে আগামী সোমবারের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
গত ২১ এপ্রিল থেকে চলমান এই আন্দোলনের কারণে ক্লাস, মিডটার্ম পরীক্ষা ও নিয়মিত পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, রেঞ্জ ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ইসরাত জাহান লিজা, কলা অনুষদের ডিন ড. আব্দুল বাতেন, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ও প্রক্টর ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল এবং জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. হাফিজ আশরাফুল হক।
দীর্ঘ আলোচনার পর ভিসি ও বিভাগীয় কমিশনার সাংবাদিকদের জানান, একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় সচল করার বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার ও ভিসি শিক্ষকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত দাবিগুলো বিধি মোতাবেক পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, ‘ভিসি ও বিভাগীয় কমিশনার আমাদের জানিয়েছেন যে, আইন অনুযায়ী সকল পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তাঁরা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে আমাদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন। যেহেতু আন্দোলনের সিদ্ধান্তটি সকল শিক্ষক মিলে নিয়েছিলেন, তাই আগামী রবি বা সোমবারের মধ্যে আমরা নিজেরা আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব।’
বিজ্ঞাপন
ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল জানান, ছয় অনুষদের মধ্যে পাঁচজন ডিন এই সভায় উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসন তাঁদের দাবির বিষয়ে একমত পোষণ করেছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যও দ্রুত বোর্ড গঠন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, ‘আজকের ত্রিপক্ষীয় সভায় ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা আশা করছি শিক্ষকরা দ্রুতই ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরবেন। তাঁদের সমস্যা সমাধানের জন্য শিগগিরই একটি সিন্ডিকেট সভা ডাকা হবে এবং সেখানে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
গত ২১ এপ্রিল ১০২ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কর্মবিরতি শুরু করেন শিক্ষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ২১০ জন শিক্ষকের মধ্যে প্রায় ৬০ জন প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর পদোন্নতি পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষকদের দাবি, বর্তমান ভিসি গত বছরের অক্টোবরে পদোন্নতি বোর্ড গঠন করলেও পরবর্তী দুটি সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি উত্থাপন করেননি। সর্বশেষ ৩১ মার্চের সভাতেও কোনো সমাধান না আসায় তাঁরা আন্দোলনে নামেন।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ২০১৫ সালের বিধিমালা অনুযায়ী পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু হলেও ইউজিসির নির্দেশনায় তা আটকে যায়। ইউজিসি ২০২১ সালের অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে। দেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এই নীতিমালা গ্রহণ করলেও ববিসহ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় এখনো তা সম্পন্ন করেনি। এখন নতুন নীতিমালা তৈরি করে সিন্ডিকেটে পাস করার পর ইউজিসির অনুমোদন সাপেক্ষে শিক্ষকদের পদোন্নতি কার্যকর করা হবে।
প্রতিনিধি/একেবি




