সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃষ্টিভেজা দিনগুলি

আসিফ ইকবাল, বাকৃবি
প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম

শেয়ার করুন:

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃষ্টি ভেজা দিনগুলি

‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে…’ গানের এই লাইনটা যেন হঠাৎ করেই সত্যি হয়ে ওঠলো বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকেই আকাশ ভারী হয়ে আসে, মেঘ জমে। তারপর কোনো এক মুহূর্তে নেমে আসে ঝুম বৃষ্টি। আর সেই সঙ্গে বদলে যায় পুরো ক্যাম্পাসের চেহারা।


বিজ্ঞাপন


ক্লাস চলছিল, হঠাৎ করেই জানালার কাঁচে টুপটাপ শব্দ। কেউ খাতা বন্ধ করে তাকায় বাইরে, কেউ বেঞ্চে বসেই বৃষ্টির শব্দ শোনে। শিক্ষক পড়াচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু মনটা যেন বাইরে, ভেজা গাছপালার দিকে। এই দৃশ্যটা বাকৃবিতে খুব পরিচিত।

dfcfe668-2aa1-47ca-aea7-d09e4df144a2

বৃষ্টি নামার সঙ্গে সঙ্গে জব্বারের মোড়, টিএসসি, সমাবর্তন চত্বর, আমবাগান সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে এক ধরনের সজীবতা। ধুলোমাখা পাতাগুলো ধুয়ে একেবারে পরিষ্কার হয়ে যায়, চারপাশে ভেজা মাটির গন্ধ। গাছের নিচে দাঁড়িয়ে কেউ বৃষ্টি দেখে, কেউ আবার ইচ্ছা করেই ভিজে নেয়।

ক্যাম্পাসে তখন ছোট ছোট দৃশ্যগুলো চোখে পড়ে বেশি। এক ছাতার নিচে দু-তিনজন হেঁটে যাচ্ছে, কেউ দৌড়ে হলের দিকে ফিরছে, আবার কেউ ধীরে ধীরে হাঁটছে, শুধু সময়টা উপভোগ করার জন্য। কে আর মার্কেট বা জব্বারের মোড়ের টঙ দোকানে গরম চায়ের কাপে ধোঁয়া উঠছে, আর সেই সঙ্গে জমে উঠছে আড্ডা।


বিজ্ঞাপন


হলের ভেতরেও বৃষ্টির আলাদা একটা পরিবেশ তৈরি হয়। অনেক রুমে খিচুড়ি রান্না শুরু হয়। কেউ ডাল ধুচ্ছে, কেউ চাল, আর কেউ শুধু দাঁড়িয়ে গল্প করছে। বাইরে বৃষ্টি ঝরছে, ভেতরে হাসি-ঠাট্টা এই মিলটাই বৃষ্টির দিনের আসল রূপ।

50e4a51a-8a61-4ce9-bb0b-9d822523cb3f

তবে বৃষ্টি সবসময় শুধু আনন্দ নিয়ে আসে না। অনেকেই এই সময়টায় একটু চুপচাপ হয়ে যায়। জানালার পাশে বসে বাড়ির কথা মনে পড়ে, পরিবারের কথা মনে পড়ে। বিশেষ করে যারা দূরে থেকে পড়াশোনা করছে, তাদের কাছে বৃষ্টির দিনগুলো একটু অন্যরকম লাগে।

অনেক শিক্ষার্থীকে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের জব্বারের মোড়ের কিংবা শেষ মোড়ের টঙের ভেতর ভেজা বেঞ্চে বসে চা খেতে।

আবার অনেকের কাছে বৃষ্টি মানেই একটু মুক্তি। ক্লাস, পরীক্ষা, প্র্যাকটিক্যাল খাতা লিখার চাপের মাঝে এই সময়টা একটু স্বস্তি দেয়। কাদা মাখা মাঠে ফুটবল, ভেজা রাস্তায় হাঁটা বা শুধু চুপচাপ বৃষ্টি দেখা সবকিছুই তখন ভালো লাগে।

তবুও ক্যাম্পাসজুড়ে চলতে থাকা নানা রঙিন ব্যস্ততার মাঝেও দেখা যায়, অনেক শিক্ষার্থী নিজ নিজ কক্ষে নিশ্চিন্তে ঘুমে মগ্ন। বৃষ্টিভেজা দিনে কাঁথা গায়ে জড়িয়ে সেই আরামদায়ক ঘুমই যেন তাদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় হয়ে ওঠে।

e23286c4-3330-442b-9b6d-1c75934ef40d

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেন বলেন, বৃষ্টি হলে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক রুটিনটা অনেকটাই বদলে যায়। ক্লাস থাকলেও মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় ক্লাস শেষ করে দ্রুত রুমে ফিরে আসতেই ভালো লাগে। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ আর ঠান্ডা বাতাসের কারণে খুব বেশি বাইরে ঘোরাঘুরি করতে মন চায় না। তবে এই সময়টায় রুমে বসে থেকে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করা বা গরম ধোঁয়া ওঠা চা খেতে ভালো লাগে। তবে সকালে কাদা মাড়িয়ে, পা ডুবিয়ে, কাক ভেজা হয়ে ক্লাসে যাওয়াটাই সবচেয়ে বিরক্তিকর।

বাকৃবির প্যারাসাইটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সহিদুজ্জামান বলেন, আমাদের পরিবেশ অন্যান্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আলাদা। এখানে সবুজের বিস্তার বেশি এবং প্রকৃতির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের এক ধরনের নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হয়। বৃষ্টির দিনে সেই পরিবেশ আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে গরমের সময় হঠাৎ বৃষ্টি নামলে তা ক্যাম্পাসে এক ধরনের স্বস্তি এনে দেয়, যা শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রশান্তিদায়ক। শিক্ষার্থীরা তখন কিছুটা স্বস্তি অনুভব করে এবং ক্যাম্পাস জীবনের সৌন্দর্য আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারে। তবে এই স্বস্তির মাঝেও পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা জরুরি।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর