দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা, অস্থিতিশীলতা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)। এসব ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইউটিএলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন যৌথভাবে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলোতে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এক সংগঠন আরেক সংগঠনের বিরুদ্ধে ট্যাগিংয়ের রাজনীতি করছে, যা সহিংসতার জন্ম দিচ্ছে। এসব ঘটনায় শিক্ষাঙ্গণের স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
ইউটিএল মনে করে, সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব, রাজনৈতিক বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে নিয়োগ, দলীয় অসহিষ্ণুতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিবৃতিতে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় সাম্প্রতিক একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলা হয়, একটি স্ক্রিনশটকে কেন্দ্র করে ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের মব সৃষ্টি এবং ডাকসুর একাধিক নেতার ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলাও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়। এসব ঘটনা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি বলে মনে করে সংগঠনটি।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি কলেজ, পাবনার ঈশ্বরদী এবং কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ওপর দেশীয় অস্ত্রসহ হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এসব ঘটনার ফলে শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।
ইউটিএল অভিযোগ করে, অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা অনুপস্থিত বা প্রশ্নবিদ্ধ, যা পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শিক্ষাঙ্গণ হওয়া উচিত জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও সহনশীলতার জায়গা; সহিংসতা ও ভয়ের নয়। তাই অপরাধী যেই হোক, দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিতে অবিলম্বে সব সহিংস ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদার, রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ এবং স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ছাত্রসংসদের গুরুত্ব তুলে ধরে ইউটিএল জানায়, যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ রয়েছে, সেগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনায় প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন। আর যেসব প্রতিষ্ঠানে এখনো ছাত্রসংসদ নির্বাচন হয়নি, সেখানে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানানো হয়।
প্রতিনিধি/এমআই




