বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

সমস্যায় জর্জরিত বাকৃবির ভিটিএইচ এখন আধুনিকায়নের পথে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, বাকৃবি
প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম

শেয়ার করুন:

সমস্যায় জর্জরিত বাকৃবির ভিটিএইচ এখন আধুনিকায়নের পথে

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতাল (ভিটিএইচ) কেবল পশু চিকিৎসার কেন্দ্র নয়, বরং এটি ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখার প্রধান ক্ষেত্র। তবে বর্তমানে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে এই হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষাও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ছোট প্রাণী যেমন ছাগল, ভেড়া, কুকুর ও বিড়ালের জন্য শেডের ব্যবস্থা থাকলেও গরু বা মহিষের মতো বড় প্রাণীদের জন্য পর্যাপ্ত আকারের শেড বা ছাউনির ব্যবস্থা নেই। 


বিজ্ঞাপন


ময়মনসিংহের সুতিয়াখালির খামারি ইদ্রিস আলী জানান, এই হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা সেবার সুযোগ থাকলেও কিছু সমস্যা আছে। যেমন বৃষ্টির সময় ছাগল-ভেড়া ভালোভাবে থাকলেও গরু বা মহিষের মতো বড় পশুর জন্য কোনো বড় ছাউনি নেই, তখন অসুস্থ পশুকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। একজন খামারি হিসেবে তার দাবি, বড় প্রাণীদের জন্যও দ্রুত বড় শেডের ব্যবস্থা করা হোক।

এদিকে হাতে-কলমে শেখার জন্য পর্যাপ্ত প্রাণী না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা। ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থী রিফাত ভূঁইয়া বলেন, আমাদের ভেটেরিনারি শিক্ষার প্রধান অংশই হলো হাতে-কলমে অনুশীলন। কিন্তু হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের তুলনায় প্রাণীর সংখ্যা অনেক কম হওয়ায় আমরা পর্যাপ্ত প্র্যাকটিস করার সুযোগ পাচ্ছি না। বাধ্য হয়ে অনেক সময় একই প্রাণীকে বারবার ইনজেকশন দিতে হচ্ছে, যা ওই প্রাণীর জন্য যেমন অমানবিক ও যন্ত্রণাদায়ক, তেমনি আমাদের শিক্ষার গুণগত মানকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। 

দক্ষ ভেটেরিনারিয়ান হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য এবং প্রাণিকল্যাণ নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত প্রাণীর ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি। হাসপাতালটির অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে জনবল সংকট। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী জানান, ড্রেসিংসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক কাজে পর্যাপ্ত কর্মচারীর অভাব রয়েছে, ফলে অসুস্থ প্রাণীদের চিকিৎসা সেবা পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। 


বিজ্ঞাপন


তিনি আরও বলেন যে, শিক্ষকদের চিকিৎসকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একই সময়ে ব্যবহারিক পাঠদানও করতে হয়, ফলে চরম চাপের মধ্যে যেমন প্রাণীর চিকিৎসা সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম।

তবে হাসপাতালের বিদ্যমান এই সংকট কাটিয়ে উঠতে আশার বাণী শুনিয়েছেন সদ্য নিযুক্ত বাকৃবি ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের পরিচালক এবং সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল আলম। 

তিনি জানান, হাসপাতালের চিকিৎসা সেবাকে আরও গতিশীল ও যুগোপযোগী করতে বর্তমানে দ্বিতীয় একটি অপারেশন থিয়েটার নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। গত কয়েক বছর ধরে সার্জারির জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতির যে ঘাটতি ছিল, তা দূর করতে নতুন সরঞ্জাম কেনা হয়েছে যা আগে ছিল না। এর ফলে এখন আরও জটিল ও সূক্ষ্ম অপারেশনগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। 

তিনি আরও বলেন, বৃষ্টি ও রোদ থেকে অসুস্থ প্রাণীদের সুরক্ষা দিতে নতুন শেড নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর ধারাবাহিকতায় গত শীত মৌসুমেও হাসপাতালের প্রাণীদের ঠান্ডা থেকে বাঁচাতে শেডের চারপাশ ঢেকে দেওয়া হয়েছিল, যা আগে সম্পূর্ণ খোলা অবস্থায় থাকত। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা গরু বা ছাগলের খাদ্যের যোগান দিতে সামনের খালি জায়গায় নতুন উন্নত জাতের ঘাস লাগানো হয়েছে। 

অধ্যাপক মাহমুদুল আলম আরও যোগ করেন যে, হাসপাতালের পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে মৃত প্রাণী বা বর্জ্য অপসারণে নতুন ইনসিনারেশন পিট তৈরি করা হচ্ছে যাতে বর্জ্য যত্রতত্র ফেলে রাখা না হয়। নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পুরো হাসপাতালকে শক্তিশালী সার্চলাইটের আওতায় আনা হচ্ছে এবং সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সর্বোপরি খামারিদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটি যাতে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা যায়, সেজন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Veterinary-4

সামগ্রিক আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান বলেন, ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের আধুনিকায়ন ও সার্বিক সংস্কারের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প প্রস্তাব ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। প্রকৌশলীদের মাধ্যমে সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করে প্রস্তাবনা জমা দেওয়া হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ এই বাজেট অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। বাজেট পাওয়া গেলে হাসপাতালের বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা ধাপে ধাপে সমাধান করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রতিনিধি/একেবি

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর