বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের বয়স সংশোধন নীতিমালা জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম

শেয়ার করুন:

মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের বয়স সংশোধন নীতিমালা জারি
মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের বয়স সংশোধন নীতিমালা জারি

এমপিওভুক্ত মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও শিটে জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য নতুন নীতিমালা প্রকাশ করেছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতর। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে প্রকাশিত এ নীতিমালায় জন্মতারিখের ভুল এন্ট্রি সংশোধনের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নীতিমালার ভূমিকায় উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে এমপিও শিটে জন্মতারিখ ভুল এন্ট্রি সংশোধনের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আবেদন জমা পড়ছিল। এসব ভুলের বেশিরভাগই পূর্ববর্তী রেকর্ড থেকে এসেছে। বিশেষ করে মাউশির সময়কার তথ্যভাণ্ডার থেকে প্রাপ্ত। এছাড়া অনলাইনে এমপিও আবেদন করার সময়ও অনেক ক্ষেত্রে জন্মতারিখ বা নামের বানানে ভুল এন্ট্রি হয়েছে। বিদ্যমান এমপিও নীতিমালায় এ ধরনের ভুল সংশোধনের সুনির্দিষ্ট বিধান না থাকায় আবেদনগুলো নিষ্পত্তিতে জটিলতা তৈরি হচ্ছিল। এ প্রেক্ষাপটে সঠিক জন্মতারিখ প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রথম এমপিও আবেদনের সময় জমা দেওয়া দাখিল বা সমমান পরীক্ষার সনদ এবং জাতীয় পরিচয়পত্রে উল্লিখিত জন্মতারিখের ভিত্তিতে এমপিও শিটে সংশোধন করা যাবে। চাকরির আবেদনের সময় দাখিলকৃত সনদ থাকলে সেটিকেই বয়স নির্ধারণের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

তবে যেসব কর্মচারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা দাখিল বা সমমানের নিচে, তাদের ক্ষেত্রে বয়স সংশোধনের সুযোগ রাখা হয়নি। এছাড়া জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদনকে শুধুমাত্র করণিক ভুল সংশোধন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

আবেদনকারীকে নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করতে হবে। আবেদন সরাসরি বা অনলাইনে করা যাবে। আবেদনের সঙ্গে এমপিও কপি, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন, দাখিল বা সমমান পরীক্ষার সনদ, নিয়োগপত্র, যোগদানপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে।

আবেদন যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনে কমিটি গঠন করা হবে, যা প্রয়োজনবোধে সংশ্লিষ্ট বোর্ড বা রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করবে। যাচাই শেষে কমিটি মহাপরিচালকের কাছে সুপারিশ দেবে এবং তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। আবেদন মঞ্জুর বা নামঞ্জুরের সিদ্ধান্ত সাত দিনের মধ্যে আবেদনকারীকে জানাতে হবে।


বিজ্ঞাপন


নতুন শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রথম এমপিও পাওয়ার পরই জন্মতারিখে কোনো ভুল থাকলে তাৎক্ষণিক সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হবে। এছাড়া অবসর গ্রহণের কমপক্ষে এক বছর আগে সংশোধনের আবেদন জমা দিতে হবে।

সংশোধনের ফলে চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি পেলেও কোনো বকেয়া দাবি করা যাবে না। এ জন্য ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ভুল তথ্য প্রদান, একই আবেদন বারবার করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো আবেদন নামঞ্জুর হলে দুই মাসের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া আবেদনের ভুলের ধরন ও করণীয় সম্পর্কেও বিস্তারিত নির্দেশনা সংযুক্ত করা হয়েছে।

এম/এএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর