ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা ছিল—অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীদের তুলনায় বাড়তি সংস্থাপন ফি এবং মাস্টার্সে ভর্তি ফি প্রদান করা। বিষয়টি হল সংসদের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলে সুষ্ঠুভাবে সমাধান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় হল সংসদের নেতৃবৃন্দ ও হল প্রশাসনের দীর্ঘ আলোচনার পর এ বিষয়ে সমাধানে পৌঁছানো হয়।
বিজ্ঞাপন
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীদের সংস্থাপন ফি ৬০০ টাকা এবং মাস্টার্সে ভর্তি ফি ৮০০ টাকা, শামসুন্নাহার হলে সংস্থাপন ফি ৩৬০ টাকা এবং মাস্টার্সে ভর্তি ফি ৭০০ টাকা, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে সংস্থাপন ফি ৬৬০ টাকা এবং মাস্টার্সে ভর্তি ফি ৫০০ টাকা, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের সংস্থাপন ফি ১০০০ টাকা এবং মাস্টার্সে ভর্তি ফি ৫০০ টাকা। অন্যদিকে, সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থীদের সংস্থাপন ফি ছিল ১২০০ টাকা, যা কমিয়ে এখন ৯৬০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া মাস্টার্সে ভর্তি ফি ৩৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে ২৩০০ টাকা করা হয়েছে, যা আগামী জুন-জুলাই শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হবে।
সুফিয়া কামাল হলের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সাদিয়া হাসান লিজা বলেন, “ডাকসু হওয়ার অনেক আগে থেকেই বেশ কয়েকবার সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আমরা আমাদের সংস্থাপন ফি এবং মাস্টার্সে ভর্তি ফি কমানোর বিষয়ে হল প্রশাসনের কাছে গিয়েছি, তবে কোনো কিছুই ফলপ্রসূ হয়নি। নিঃসন্দেহে হল সংসদের জন্য এটি একটি বড় অর্জন।”
২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী তাবাসসুম রশিদ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের বাড়তি সংস্থাপন ফি এবং মাস্টার্সে ভর্তি ফি প্রদান করতে হয়েছে। যদিও এটি কমানোর জন্য আমরা বারবার হল প্রশাসন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছি, তবুও কোনো সমাধান আসেনি। তবে সকলের সার্বিক সহযোগিতায় বাড়তি ফি প্রদানের রীতি কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসায় আমরা শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত খুশি। হল সংসদকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই।”
এ বিষয়ে হল সংসদের ভিপি সানজানা চৌধুরী রাত্রি বলেন, “কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদ-২০২৫-এর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল হলের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ন্যায্য মাস্টার্সে ভর্তি ফি এবং সংস্থাপন ফি নির্ধারণ করা। নির্বাচনে আমরা যারা প্রার্থী হয়েছিলাম—জিতেছি বা হেরেছি—সবার প্রধান ইশতেহারই ছিল এটি।”
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য হলের তুলনায় সুফিয়া কামাল হলের সংস্থাপন ফি ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, ১২০০ টাকা। অন্যদিকে, এতদিন মাস্টার্সে ভর্তি ফি ছিল ৩৩০০ টাকা, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হলের মধ্যে সর্বোচ্চ।
তিনি বলেন, “গত ১৩ বছরে এই হলের শিক্ষার্থীরা ন্যায্য সংস্থাপন ফি এবং মাস্টার্সে ভর্তি ফির দাবি জানিয়ে এলেও হল প্রশাসন কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কখনও এই সমস্যা সমাধান করেনি। হল সংসদ দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রশাসনের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা করে ফি হ্রাসের দাবি তুলে ধরি। কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদ-২০২৫ দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এই সমস্যাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শুরু থেকেই কাজ করে আসছে।”
এছাড়াও কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক শিমু আক্তার বলেন, “কবি সুফিয়া কামাল হলের আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের একটি বহুল আকাঙ্ক্ষিত বিষয় ছিল মাস্টার্সে ভর্তি ফি এবং সংস্থাপন ফি কমানো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য হলের তুলনায় এখানে অনেক বেশি ফি দিতে হতো। এই সমস্যা সমাধানে হল সংসদ সর্বদা সোচ্চার ছিল এবং বিষয়টি নিয়ে বারবার আলোচনা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের চাহিদা ও নিয়মিত আলোচনার প্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত ফি কমানো সম্ভব হয়েছে। বিগত ১৩ বছরের এই চাওয়া পূরণ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত।”
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ এই যাত্রায় আমাদের ওপর আস্থা রাখার জন্য হলের সকল সাধারণ শিক্ষার্থীর প্রতি আমরা গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই সাফল্য আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। শিক্ষার্থীদের অধিকার ও স্বার্থরক্ষায় কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদ সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
এসএইচ/এএস




