রোববার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নীতিমালার আওতায় আনার ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম

শেয়ার করুন:

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নীতিমালার আওতায় আনার ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর
সিলেটের জালালাবাদে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশে পরিচালিত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলো, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হবে। 

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে সিলেটের জালালাবাদ গ্যাস অডিটরিয়ামে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।


বিজ্ঞাপন


এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে সিলেট শিক্ষা বোর্ড এবং সিলেট অঞ্চলের মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানই নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকতে পারবে না। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং তাদের একটি রেগুলেটরি বোর্ডের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে বিএনসিসি, গার্লস গাইড ও স্কাউট কার্যক্রম প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সরকার শিক্ষা খাতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় ২২টি কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ড্রেস প্রদান এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রম জোরদারের উদ্যোগ রয়েছে।


বিজ্ঞাপন


নকলের বিষয়টি তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে নকলের ধরন পরিবর্তিত হয়ে ডিজিটাল হয়েছে। তাই শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, এর মূল কারণ খুঁজে বের করতে হবে। শিক্ষার মান, কারিকুলাম ও শিক্ষকতার গুণগত মান উন্নত না হলে নকল বন্ধ করা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে এনটিআরসিএর মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন স্কেল, মেডিকেল এলাউন্স ও হাউস রেন্ট বৃদ্ধির বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরীক্ষার ফলাফলে অস্বাভাবিক ওঠানামা দেখা যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে মূল্যায়নের অনিয়মের কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন সঠিক ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।

শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন অসঙ্গতির কথাও তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে একাধিকবার রেজিস্ট্রেশন ফি আদায়, কোচিং নির্ভরতা ও অতিরিক্ত ফি নেওয়ার প্রবণতা। এসব অনিয়ম বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা। শিক্ষক, প্রশাসন ও অভিভাবক সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে না পারলে দেশের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়বে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি ছাড়াও দাখিল, কারিগরি শিক্ষা, শিক্ষক নিয়োগ ও ব্যাংক নিয়োগসহ সব ধরনের পরীক্ষাই এর অন্তর্ভুক্ত। নকলের ধরনও বদলে গেছে। এখন অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা সরাসরি জড়িত না থাকলেও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ও সংগঠিতভাবে নকলের ঘটনা ঘটছে। এসব অপরাধ আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে শুধু নজরদারির জন্য নয়, বরং শিক্ষা কার্যক্রমের মান পর্যবেক্ষণের জন্যও।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সব স্কুলে গিয়ে সরাসরি তদারকি করা সম্ভব নয়। তাই প্রযুক্তির মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে ক্লাসরুম পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ‘প্রাথমিকে বৃত্তির অর্থ ও সংখ্যা বাড়ানোর কথা ভাবছে সরকার’

অনলাইন শিক্ষার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটসহ বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণ করতে হয়েছে। সমালোচনা থাকলেও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অনলাইন ও শ্রেণিকক্ষভিত্তিক সমন্বিত শিক্ষা পদ্ধতি চালুর কথা ভাবা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে সরকার অবকাঠামোর চেয়ে কারিগরি শিক্ষা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং যুগোপযোগী কারিকুলাম উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দেবে।

পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে র‌্যান্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতি চালুর কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর