বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

ইবিতে তীব্র লোডশেডিং, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক,
প্রকাশিত: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম

শেয়ার করুন:

ইবিতে তীব্র লোডশেডিং, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে চলমান সেমিস্টার পরীক্ষা ও নিয়মিত পড়াশোনার চাপে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো প্রস্তুতি নিতে পারছেন না।

ক্যাম্পাসসূত্রে জানা গেছে, ইদানিং প্রায় প্রতিদিনই রাতের গুরুত্বপূর্ণ সময়জুড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। একই সঙ্গে দিনের বেলাতেও হঠাৎ হঠাৎ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আধা ঘণ্টার বেশি সময় পার হলেও জেনারেটর চালু করা হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা চার্জার লাইট ও মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে যেমন পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে, তেমনি তীব্র গরমে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।


বিজ্ঞাপন


ইবি শিক্ষার্থী আদিয়াত আদিব বলেন, রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ল্যাব রিপোর্ট লেখা, অ্যাসাইনমেন্ট করা ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে খুব সমস্যা হচ্ছে। অনেকেই ঠিকমতো ঘুমাতে পারছে না, যার প্রভাব পড়ছে পড়াশোনা ও স্বাস্থ্যের ওপর।

আরেক শিক্ষার্থী সোনিয়া রহমান বলেন, সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকাগুলো একেবারে অন্ধকার হয়ে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং থাকায় পড়াশোনা করা সম্ভব হয় না। বৃষ্টির সময় রান্নাবান্নাও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। সামনে পরীক্ষা থাকায় খুব দুশ্চিন্তায় আছি।

শহীদ জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মুতাসিম বিল্লাহ খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের মেস এলাকায় ব্যাপক লোডশেডিং হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। পরীক্ষা প্রস্তুতি ও গবেষণা কার্যক্রম বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি দ্রুত সমস্যার সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে, ইবি ছাত্রদল নেতা রাফিজ আহমেদ বলেন, ১৭৫ একরের ক্যাম্পাস অন্ধকারে ডুবে থাকে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময়েও জেনারেটর চালু হয় না। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন বিভাগের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা চলমান থাকায় এই পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বৃষ্টি ও লোডশেডিং মিলিয়ে ক্যাম্পাসে ভয়াবহ অন্ধকার নেমে আসে, যা নিরাপত্তাহীনতা বাড়াচ্ছে।

প্রক্টর শাহিনুজ্জামান শাহিন বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। এই নিয়ে আমরাও চিন্তিত। তবে এই বিষয় নিয়ে প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বললে তিনি ভালো বলতে পারবেন। তবে  তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যা সমাধান করার জন্য আমার প্রয়োজন হলে সার্বক্ষণিক শিক্ষার্থীদের পাশে আছি থাকব। জেনেরেটরসহ বিদ্যুৎ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী ভালো সমাধান দিতে পারবেন।

প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম শরিফ বলেন, লোডশেডিং আমাদের নেই বললেই চলে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কিছু সমস্যা হয়েছে গত ২দিন ধরে। গ্রাম গঞ্জের ভেতর দিয়ে লাইনগুলো এসেছে। কাল বৈশাখী ঝড়ের কারণে মাঝেমধ্যে লাইনের ওপর গাছপালা ভেঙে পড়ছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেছি ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সেবা দেওয়ার। জ্বালানি তেলের কারণে অনেক সময় জেনেরেটর তুলনামূলক কিছুটা কম সার্ভিস দিচ্ছে। সাধারণত ১০ মিনিটের মধ্যে জেনেরেটর দিয়ে থাকি। আর অফিস টাইমে ৫ মিনিটের মধ্যেই দেওয়া হয়।  এছাড়াও বিভিন্ন হলে অতিরিক্ত লাইন সংযোগ রয়েছে যার ফলে জেনেরেটর ব্যাক আপ দিতে পারতেছে না। ক্যাম্পাস পাশ্ববর্তী এলাকাগুলো আমাদের আওতাধীন নয়, তাই এই বিষয় বলতে পারছি না।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর