কুমিল্লার সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিনের আত্মহত্যার ঘটনা উদঘাটনে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতর।
রোববার (৫ এপ্রিল) ঢাকা মেইলকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, এই ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে এবং মেডিকেলে শিক্ষার পরিবেশ বজায় থাকে এ জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। মেডিকেলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক চাই।
যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো তদন্ত করবে কমিটি। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এদিকে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতর জানিয়েছে, অর্পিতা নওশিনের অনাকাঙ্খিত অকাল মৃত্যুর ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। এই ঘটনায় বর্ণিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক পরিবেশ, শিক্ষার্থী মূল্যায়ন প্রক্রিয়া, এবং শিক্ষার্থী কল্যাণ সংক্রান্ত বিষয়াদি পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
এমতাবস্থায়, উক্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব নিরূপণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে নিম্নরূপ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো:
বিজ্ঞাপন
কমিটিতে অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালককে (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমিনকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জোবায়দা সুলতানা এবং সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের উপ-পরিচালক (শৃঙ্খলা) ডা. মুহাম্মদ আবদুল কাদের।
আরও পড়ুন: বাইকের হর্ন বাজতেই খাবারের আশায় ছুটে আসে অবলা প্রাণীরা
তদন্ত কমিটির কার্যপরিধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অর্পিতা নওশিনের অকাল মৃত্যুর প্রেক্ষাপট অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া পর্যালোচনার ওপর।
এছাড়া শিক্ষার্থীর প্রতি কোনো ধরনের মানসিক চাপ, হয়রানি বা বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে কি না এবং শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কমিটিকে।
সেইসঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও দায়-দায়িত্ব মূল্যায়ন করা। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, পরীক্ষার ফলাফল ও উপস্থিতি রেকর্ড সংগ্রহ করে কলেজ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা মূল্যায়ন করবে এই কমিটি। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ প্রদান করা।
তদন্ত কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার তাগিদ দিয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতর।
জানা গেছে, অর্পিতা নওশিন একটি বিষয়ে পাঁচবার পরীক্ষা দিলেও উত্তীর্ণ হওয়ার মতো নম্বর পাননি। গত ২ এপ্রিল আবারও ফরম ফিলাপের জন্য বাড়ি থেকে টাকা নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই মানসিক চাপ সইতে না পেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় হোস্টেলের নিজ কক্ষে বিপুল পরিমাণ ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। বন্ধুরা তাকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে এক শিক্ষকের রোষানলে পরে ওই শিক্ষার্থী বার বার একই বিষয়ে ফেল করিছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষার্থীর এক সহপাঠী জানান, প্রথম বর্ষেই কলেজের এনাটমি বিভাগের প্রধান ডা. মনিরা জহিরের রোষানলে পড়েন নওশিন। এরপর প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় সকল বিষয়ে উত্তীর্ণ হলেও এনাটমি বিষয়ে অকৃতকার্য হতে হয় তাকে। এরপর গত তিন বছরে আরও ৪ বার এনাটমির পরীক্ষা দিয়েছেন নওশিন। কিন্তু প্রত্যেকবারই পরীক্ষায় ফেল এসেছে।
অর্পিতা নওশিন ছিলেন কুমিল্লার সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
এসএইচ/এআরএম

