ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) এবারের ঈদে ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ। ঈদের ছুটিতে যখন অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান, তখন বিভিন্ন কারণে হলে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের উদ্যোগ নেন তিনি।
জানা যায়, পরীক্ষাসহ নানা কারণে প্রায় ৭০০ থেকে ৭৫০ জন শিক্ষার্থী ঈদের সময় হলেই অবস্থান করেন। তাদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিজেও ক্যাম্পাসে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মুসাদ্দিক। এসময় জিয়াউর রহমান হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য সাদিক মুনেমকে সঙ্গে নিয়ে ঈদের আগের দুই দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে শিক্ষার্থীদের জন্য উপহার প্রস্তুত ও বিতরণ করেন।
বিজ্ঞাপন
উপহার হিসেবে শিক্ষার্থীদের মাঝে ‘টোকেন অব লাভ’ হিসেবে বিভিন্ন সামগ্রী ও সালামি বিতরণ করা হয়। ছাত্রীদের জন্য মেহেদি, জেলি ও জরি এবং নতুন নোটের সালামি দেওয়া হয়। ছাত্রদের জন্য ছিল টুপি, আতর ও নতুন নোট। এছাড়া জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদাভাবে পারফিউমসহ উপহার দেওয়া হয়।
ডাকসুর অধিকাংশ স্টাফ ছুটিতে থাকায় প্রায় এক হাজার গিফট প্যাকেট প্রস্তুতের পুরো কাজটি সীমিত জনবল নিয়েই সম্পন্ন করা হয়। মুসাদ্দিক আলী ও তার সহযোগী নিজ উদ্যোগে প্যাকেট তৈরি, সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেন।
বিজ্ঞাপন
শুধু উপহার বিতরণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তিনি। ঈদের দিন ডাকসু ভবনে হলে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়। সেখানে সেমাই, মুড়িসহ বিভিন্ন খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য ফটো বুথ ও ফটো ফ্রেম তৈরি করা হয়, যাতে তারা উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারেন।
এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে অভূতপূর্ব সাড়া ফেলেছে। অনেকেই এমন উদ্যোগকে মানবিক ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। শিহাব উদ্দিন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, এতো উপহার, শুভেচ্ছা থাকবে জানলে বাসায় আসতাম না। হালিমা আক্তার নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আগে জানাবেন না উপহার দিবেন, তাহলে ঢাকায়ই থেকে যেতাম।
এসএইচ/এমআই

