বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

জবিতে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ২ শিক্ষককে হেনস্তার অভিযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, জবি
প্রকাশিত: ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম

শেয়ার করুন:

H
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান হিমেল

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড.  আবু হানিফ ও সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শরীফুল ইসলামকে জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের নেতৃত্বে হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। 

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।


বিজ্ঞাপন


ভুক্তভোগী শিক্ষকদের দাবি, নতুন উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ক্যাম্পাসে এলে তাদের গতিরোধ করে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল, যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ, সুমন সর্দারের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন নেতাকর্মী। এসময় তাদের রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চায় তারা। 

পরে তারা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ও বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে এলাকায় (চাঁদপুরে) রাজনীতি করে বলার পর তাদের গুপ্ত ট্যাগ দেন হিমেল। এরপর ভুক্তভোগী শিক্ষক ড. আবু হানিফ তাকে পাল্টা প্রশ্ন করলে তাদের ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। 

পরে তাদের সঙ্গে থাকা আরেক বন্ধুর ফোন কেড়ে নিয়ে সেটি চেক করেন ছাত্রদল নেতারা। এ ঘটনার পর মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত থেকে ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা। 

ঘটনার বিষয় জানতে চাইলে ভুক্তভোগী শিক্ষক অধ্যাপক ড.  আবু হানিফ সরকার বলেন, সন্ধ্যা প্রায় সাতটার দিকে নবনিযুক্ত উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে আমি ক্যাম্পাসে উপস্থিত হলে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল আমার গতিরোধ করেন এবং অপ্রীতিকরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন ছাত্রদল নেতা সুমন সরদার, জাফরসহ ২০-২৫ জনের মতো নেতাকর্মী।


বিজ্ঞাপন


তিনি বলেন, ‘হিমেল আমাকে উদ্দেশ্য করে অভিযোগ করে, আমার সঙ্গে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং এ বিষয়ে তার কাছে বিভিন্ন ছবি রয়েছে। পাশাপাশি তিনি আমাকে দ্বৈত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। আমি এ সংক্রান্ত কোনো প্রমাণ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন যে, তার কাছে প্রমাণ রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একপর্যায়ে আমার সঙ্গে থাকা এক সহকর্মী তাকে প্রশ্ন করলে তিনি (হিমেল) উত্তেজিত হয়ে তাকে অপমানজনক ভাষায় সম্বোধন করেন। একই সঙ্গে তিনি আমাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার হুমকি দেন এবং জোরপূর্বক আমার এক বন্ধুর ফোন নিয়ে নেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষক আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে তিনি আমাকে ধাক্কা দেন এবং আমার বন্ধুকেও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। সেই সময়ও আমার বন্ধুকে ঘটনাস্থলে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। পরে জকসুর এজিএসকে বিষয়টি জানালে কিছুক্ষণ পর তিনি আমাকে জানান যে, আমার বন্ধুকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি ভিসি স্যারকে অবগত করেছি এবং ক্যাম্পাস খুললে তিনি আমাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছেন।

এ বিষয়ে জকসুর এজিএস মাসুদ রানা বলেন, স্যার শান্ত চত্বর থেকে আতঙ্কিত অবস্থায় ভিসি ভবনে এলে সর্বপ্রথম আমার সঙ্গে দেখা হয়। তখন স্যার আমার সঙ্গে ঘটনা শেয়ার করলে আমি তাৎক্ষণিক ওখানে অবস্থানরত জকসুর সদস্য ও ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য রিয়াসাল রাকিব ভাইকে ফোন দিই। তিনি তখন ওখান থেকে স্যারের বন্ধুকে উদ্ধার করেন।

হেনস্তার শিকার হওয়া সমাজকর্ম বিভাগের আরেক শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক ড. শরীফুল ইসলাম বলেন, হিমেল, সুমন সরদার, জাফরসহ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা যখন অধ্যাপক ড. আবু হানিফের সঙ্গে খুবই বাজে আচরণ করছিল, তখন আমি প্রতিবাদ করেছি। তখন তারা আমার কাছ থেকেও ফোন কেড়ে নিতে চেয়েছে। একইসঙ্গে আমাদের সঙ্গে যে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

তিনি বলেন, আমাদের রাজনৈতিক পরিচয় হিমেল জানার পরও এটা নিয়ে সে জেরা করতে থাকে। পরে আমরা বলেছি আমরা মিলন ভাইয়ের (শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন) রাজনীতি করি। তখন সে শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তিমূলক কথা বলেছে। এক পর্যায়ে সে মিলন ভাইসহ আমাদের জামায়াত ট্যাগ দেয়, যা আমাদের কাছে খুবই বিব্রতকর ছিল।’

শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই এবং এ মুহূর্তে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি। আমরা ঘটনার পরপরই উপাচার্যকে বিষয়টি জানিয়েছি। দেখি তিনি কী ব্যবস্থা নেন।’

এ বিষয়ে জানতে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে ক্ষুদে বার্তা দিয়ে ঘটনার বিষয়টি জানতে চাইলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.  রইছ উদ্দিন বলেন, গতকাল ঘটনার পরই ড. হানিফ আমার কাছে এসেছিলেন। আমি শুনেছি এই ধরণের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এটি কোনোভাবে কাম্য নয়। 

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই মিলেমিশে থাকতে চাই। এ বিষয়ে ওই শিক্ষক লিখিত অভিযোগ দেবেন বলেছেন। ক্যাম্পাস খুললে অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে।’

এএইচ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর