রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) শিক্ষক নিয়োগে দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রথা ভেঙে স্বচ্ছতা ও মেধার প্রতিফলন ঘটাতে নতুন পদ্ধতি চালু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ইউজিসির অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করে এবারই প্রথম লিখিত পরীক্ষা, ডেমো ক্লাস এবং মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন অনুষদ ও সিড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমেই শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হতো। এমনকি অনার্স পাসের পরই প্রভাষক পদে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ ছিল এবং মাস্টার্সের বিষয় বিবেচনা না করেই নিয়োগ দেওয়ার নজির ছিল। বর্তমান প্রশাসন সেই প্রথা ভেঙে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক করেছে।
শিক্ষক নিয়োগে এই উদ্যোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর দায়িত্ব নিয়েই আমি চেয়েছিলাম সব ধরনের সুপারিশ এড়িয়ে মেধাবীদের সুযোগ করে দিতে। এবারই প্রথম লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রতি পদের বিপরীতে সেরা ৫ জনকে ডেমো ক্লাস ও ভাইভার জন্য ডাকা হয়েছে। এসএসসি থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত সকল সিজিপিএ এবং পরীক্ষার নম্বর যোগ করে সর্বোচ্চ নম্বরধারীদেরই সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে নিয়োগ পাওয়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও মামলার অভিযোগ উঠলে উপাচার্য সরাসরি তা নাকচ করে দেন।
তিনি বলেন, ভাইভা বোর্ডে কাউকে রাজনৈতিক পরিচয় জিজ্ঞেস করার সুযোগ নেই। তবে নিষিদ্ধ সংগঠনের পদধারী কাউকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়।
বিজ্ঞাপন
মামলার আসামির বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পুলিশ ভেরিফিকেশনে নেতিবাচক কিছু এলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়োগ বাতিল হয়ে যাবে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. বেলাল হোসেন জানান, সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে এবং বিভিন্ন মানদণ্ড বিচার করে এই নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর মো. আবুল বাশার বলেন, অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে মেধা নিশ্চিত করতে এই ধারা বজায় রাখা উচিত।
বিইউ/এএইচ

