স্মার্টফোনের অভ্যন্তরীণ সমস্যা, ডিভাইস পরিবর্তন কিংবা দুর্ঘটনাজনিত কারণে প্রিয়জনের সঙ্গে চ্যাট বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবহারকারীদের এই বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে রয়েছে চ্যাট ব্যাকআপের দুর্দান্ত সুবিধা। যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সহজেই তাদের সমস্ত চ্যাট, ছবি, ভিডিও এবং ভয়েস মেসেজ ক্লাউড স্টোরেজে সুরক্ষিত রাখতে পারেন।
অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য গুগল ড্রাইভ এবং আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য আইক্লাউড হলো চ্যাট ব্যাকআপ সংরক্ষণের প্রধান মাধ্যম। নিয়মিত ব্যাকআপ চালু রাখলে ফোন হারিয়ে গেলেও বা নতুন ফোন কিনলেও আগের সব কথোপকথন খুব সহজেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব। ব্যাকআপ নেওয়ার প্রক্রিয়াটি খুবই সহজ এবং কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করা যায়।
প্রথমে ফোনের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপ ওপেন করে ওপরের ডান কোণায় থাকা তিনটি ডটে ক্লিক করে 'সেটিংস' অপশনে যেতে হবে। এরপর সেখান থেকে 'চ্যাটস' এবং পরবর্তীতে 'চ্যাট ব্যাকআপ' অপশনটি বেছে নিতে হবে। এই পেজে আসার পর ব্যবহারকারী তার গুগল অ্যাকাউন্ট বা আইক্লাউড অ্যাকাউন্ট যুক্ত করতে পারবেন। ব্যাকআপ নেওয়ার জন্য 'ব্যাক আপ' অপশনে ট্যাপ করলেই ম্যানুয়ালি ফাইল সেভ হতে শুরু করবে। এছাড়া প্রতিদিন, প্রতি সপ্তাহে বা প্রতি মাসে নিজে থেকেই ব্যাকআপ নেওয়ার জন্য অটোমেটিক ব্যাকআপ অপশনটি সিলেক্ট করে রাখা যায়, যা ব্যবহারকারীর কষ্ট অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
চ্যাট ব্যাকআপের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়টিতেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে মেটা। গুগল ড্রাইভ বা আইক্লাউডে সংরক্ষিত ব্যাকআপ ফাইলগুলো সাধারণত এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের আওতায় থাকে না। তবে ব্যবহারকারী চাইলে সেটিংস থেকে 'এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড ব্যাকআপ' অপশনটি চালু করে একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বা সিকিউরিটি কি সেট করে নিতে পারেন। এর ফলে একমাত্র পাসওয়ার্ড জানা ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ বা খোদ ক্লাউড সার্ভিস প্রদানকারী সংস্থাও সেই চ্যাট ফাইল পড়তে পারবে না।
ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত স্মৃতি ও গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক বা ব্যক্তিগত কথোপকথন সুরক্ষিত রাখতে নিয়মিত ব্যাকআপ রাখার অভ্যাস অত্যন্ত জরুরি। তাই আজই আপনার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে ব্যাকআপ এবং এনক্রিপশনের এই সুরক্ষাকবচটি নিশ্চিত করে নিন।
এজেড




