রোববার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

শিক্ষাকে মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করতে চায় সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

শেয়ার করুন:

শিক্ষাকে মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করতে চায় সরকার: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষাকে মুখস্থনির্ভরতার গণ্ডি থেকে বের করে সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা ও বাস্তব দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানীতে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে আগামী ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও দক্ষতাভিত্তিক করে গড়ে তোলার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করা হবে।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষাকে মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করে এনে সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা ও বাস্তব দক্ষতা উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের যৌথ গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা এবং উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সংস্কার নেওয়া হবে।’

সভায় জানানো হয়, দেশের জনসংখ্যাগত সুবিধা বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড এবং ভবিষ্যতের লংজেভিটি ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কর্মক্ষম যুব জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সুস্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

জীবনমুখী, কর্মমুখী ও উৎপাদনমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই বিএনপির শিক্ষানীতির মূল লক্ষ্য উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষক প্রশিক্ষণ জোরদার, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন এবং ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে মাধ্যমিক পর্যায় থেকে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু করা, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা এবং শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও নৈতিক শিক্ষায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা সভায় জানানো হয়। 

পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা, পর্যায়ক্রমে মিড-ডে মিল চালু করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

এসএইচ/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর