আজ ৮ মার্চ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। নারী অধিকার রক্ষার অঙ্গীকারে বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিন। তবে বর্তমান সময়ের তরুণ প্রজন্মের কাছে নারী দিবস কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, বরং এটি সমতা ও সম্মানের এক নিরন্তর পথচলা। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) সবুজ চত্বরে বেড়ে ওঠা প্রাণোচ্ছ্বল শিক্ষার্থীদের কাছেও দিবসটির গুরুত্ব বহুমুখী।
নারী শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সূচিত এই দিনটি আজ বিশ্বজুড়ে নারীর সমঅধিকার ও ক্ষমতায়নের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এ বছর জাতিসংঘ ঘোষিত প্রতিপাদ্য ‘অধিকার, ন্যায়বিচার ও পদক্ষেপ: সকল নারী ও কন্যার জন্য’। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশসহ দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও নারী জাগরণের এক নতুন চিত্র ফুটে উঠছে, যার অন্যতম উদাহরণ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস দীর্ঘ ছুটিতে থাকায় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কিছুটা কম। তবে দিবসটি উপলক্ষ্যে উপস্থিত নারী শিক্ষার্থীদের ভাবনায় উঠে এসেছে নারী দিবসে তাদের ভাবনা।
ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের শিক্ষার্থী মাহজাবিন রহমান আরশি বলেন, যখন আমরা নারী দিবস নিয়ে কথা বলছি, তখন কি আমরা এই দিনটিকে শুধু উদযাপন হিসেবে নিচ্ছি? আমরা কি শুধু বছরে এই একটা দিনেই নারীকে সম্মান করব? শুধু নারী নয়, বিগত এক মাসে কয়েকজন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। যখনি এর বিচারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়, মিডিয়া তখন একটা অপ্রাসঙ্গিক নিউজ এনে এটিকে চাপা দিয়ে রাখে।আমরা কি ভারতের মুনিয়া ধর্ষণের কথা ভুলে গেছি? একজন ছাত্রীকে কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দ্বারা হেনস্থার শিকার হতে হবে? দুঃখজনকভাবে বলতে হয় আমাদের দেশে আইন থাকলেও তার সুষ্ঠু প্রয়োগ নাই। নারীদের দোষারোপ না করে পুরুষদের শেখানো উচিত কীভাবে নারীদের সম্মান করতে হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আনতারা আজিজ বলেন, আমাদের প্রত্যাশা এমন একটি ক্যাম্পাস, যেখানে ঘড়ির কাঁটা দেখে কোনো ছাত্রীকে হলের ভেতরে ফেরার উদ্বেগ নিয়ে ছুটতে হবে না। গবেষণাগার থেকে লাইব্রেরি, সবখানে যেন নারী শিক্ষার্থীরা নির্ভয়ে তাদের সৃজনশীল কাজ চালিয়ে যেতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সোয়াইব হোসেন শাওন বলেন, ৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান, সবখানে নারীরা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। কিন্তু এসব বিপ্লবের পর তাদেরকে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়। অনেক সময় দেখা যায় নারী তাদের ঘরে স্বামীর কাছেও নির্যাতিত হচ্ছে। আর দেশের ভঙ্গুর আইন-শৃঙ্খলার কারণে অপরাধীরা এসব কাজ করতে আরও বেশি উৎসাহিত হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক সময় অনেক শিক্ষকও অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
প্রতিনিধি/এফএ

