বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

জবিতে যেভাবে সিসিটিভি বন্ধ করে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, জবি 
প্রকাশিত: ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম

শেয়ার করুন:

জবিতে যেভাবে সিসিটিভি বন্ধ করে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসের সব সিসিটিভি বন্ধ করে সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের অন্তত ১০ সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। 

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) হামলার পূর্ব মুহূর্তে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের তিনটি সিসিটিভি ছাড়া ক্যাম্পাসের সব সিসিটিভি বন্ধ করে দেওয়া হয়। 


বিজ্ঞাপন


এ বিষয়ে সাংবাদিক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। আমি তাৎক্ষণিক আইটি পরিচালককে বলেছি। তিনি আমাকে জানিয়েছেন এটি টেকনিক্যাল সমস্যা হয়েছে। 

এ বিষয়ে আইটি পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে আইটির টেকনিশিয়ান সৈকত বলেন, আমি শুনেছি ফাইবার তার কেটে যাওয়ায় সব সিসিটিভির সংযোগ লাইন কেটে যায়।

আরেক টেকনিশিয়ান শামিম বলেন, হঠাৎ দুপুর ১টার কিছুক্ষণ পরে ক্যাম্পাসের সব সিসিটিভি বন্ধ হয়ে যায়। পরে আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারগ্রাউন্ডে সিসিটিভি মূল ফাইভার কেটে দেওয়া হয়েছে৷ এখন তা ঠিক করার চেষ্টা করছি আমরা।

JU
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে ছাত্রদলের হামলায় অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হন। ছবি: ঢাকা মেইল

এর আগে দুপুর দেড়টায় হামলা শুরুর আগ মুহূর্তে শুধু উপাচার্য দফতরের সিসিটিভি ছাড়া ক্যাম্পাসের সব সিসিটিভি বন্ধ করে দেওয়া হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রদলের একাধিক সূত্র জানায়, হামলা শুরুর আগে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার আইটি দফতরে গিয়ে আইটি পরিচালকের সহায়তায় ক্যাম্পাসের সব সিসিটিভি বন্ধ করে দেয়। এটা বন্ধ করার পরই সমিতিতে হামলা শুরু করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা৷ 

এ বিষয়ে সাংবাদিক সমিতি সাধারণ সম্পাদক মাহতাব লিমন বলেন, সমিতিতে হামলার পর আমি উপাচার্যের কার্যালয়ে গেলে সেখানে স্ক্রিনে দেখি ক্যাম্পাসের সব সিসিটিভি বন্ধ। তখনই আমি উপাচার্যকে জিজ্ঞেস করি সিসিটিভি কেন বন্ধ। তখন উপাচার্য সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম সমিতিতে হামলার কিছুক্ষণ আগেই সব সিসিটিভি বন্ধ করা হয়। তার মানে আমরা কি ধরে নিতে পারি, সমিতিতে এ হামলার ঘটনায় প্রশাসনেরও কেউ কেউ জড়িত ছিলেন?

জবি সাংবাদিক সমিতির নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে গত ২৬ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সদস্য আহ্বান করা হয়। পরবর্তীতে ৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের পরিচালক অধ্যাপক ড. আন্ওয়ারুস সালাম, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির দফতর সম্পাদক ও দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার মো. রাশিম মোল্লাকে নিয়ে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়।

পরবর্তীতে সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গত ২ মার্চ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে কমিশন। এরই অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র উত্তোলন ও জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারিত ছিল। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে গত কয়েক দিন ধরেই নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসছিল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। কিন্তু কমিশন সব চাপ উপেক্ষা করে সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিলে দুপুরে ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মী সমিতির কার্যালয়ে অবস্থানরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।

ক.ম/ 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর