কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা নিহত হয়েছেন। একই সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (৩ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের ২২৬নং কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে ঐ কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে আত্মহত্যার চেষ্টায় দেখেছেন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে ঐ শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. হোসেন ইমাম।
জানা যায়, আজ সমাজকল্যাণ বিভাটির ইফতার মাহফিল ছিল। এজন্য ৩টায় অফিস শেষ হলেও শিক্ষক শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকেল ৪টা নাগাদ আনসার সদস্যরা বিভাগের চেয়ারম্যানের নিজস্ব কক্ষে চেঁচামেচির আওয়াজ শুনতে পায়। পরে আনসার সদস্যরা বাহির থেকে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। এমন সময় ইফতারে আয়োজনে দায়িত্বে থাকা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী ধাক্কাধাক্কির কারণ জানতে ঐ শিক্ষকের কক্ষের সামনে উপস্থিত হয়। পরে দরজা ভেঙে ঐ শিক্ষকের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং ফজলুর রহমান নিজের গলা নিজেই চুরি চালাতে দেখেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানার কর্তৃপক্ষকে জানান। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে ঐ শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. হোসেন ইমাম।
বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবৎ সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। পরে বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে তার সাথে ওই শিক্ষকের বাগ্বিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। অনেকের ধারণা, এ ঘটনার ক্ষোভের জেরে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, চিৎকারের আওয়াজ পেয়ে ২২৬ নং রুমের দিকে গেলে আমরা দেখি বাহির থেকে আনসার সদস্যরা দরজা ধাক্কা দিচ্ছে। দরজা ভিতর থেকে আটকা পাই। পরে সাতজন মিলে হচ্ছে দরজা ধাক্কানো শুরু করলে এক পর্যায়ে দরজাটা খুলে যায়। খুলে দেখি যে ম্যাম একদম দরজার পাশেই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। আর ওই ফজলু (কর্মচারী) লোকটা নিজের গলা নিজেই চুরি চালাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে প্রক্টর স্যারকে ফোন দিই।
বিজ্ঞাপন
কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। তার গলা, হাতে পায়ে ছুরির আঘাতের ক্ষত পাওয়া গেছে।
ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, আমরা ঘটনা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ঐ কক্ষ থেকে দুইজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল পাঠাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত্যু ঘোষণা করেন। আরেকজন ওটিতে চিকিৎসাধীন আছেন।
প্রক্টর প্রফেসর ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠালে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।
ভিসি প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, আজকের এ ঘটনা অত্যন্ত অকল্পনীয় ও অপ্রত্যাশিত। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সহযোগিতায় অবশ্যই বিচার করা হবে।
প্রতিনিধি/ এজে

