শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

অপতথ্য ছড়িয়ে যবিপ্রবি অস্থিতিশীল করার নেপথ্যে কারা

জেলা প্রতিনিধি, যশোর 
প্রকাশিত: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:০১ পিএম

শেয়ার করুন:

অপতথ্য ছড়িয়ে যবিপ্রবি অস্থিতিশীল করার নেপথ্যে কারা

বিভিন্ন মাধ্যমে অপতথ্য ও গুজব ছড়িয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে (যবিপ্রবি) অস্থিতিশীল করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়েরই একটি চক্রের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি বরখাস্ত হওয়া একজন শিক্ষক ও একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে এই তৎপরতা চলছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, তথ্য জালিয়াতি ও পাচারের অভিযোগে যবিপ্রবির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ত্রিপলি) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আমজাদ হোসেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. মিজানুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘রিজেন্ট বোর্ড’।


বিজ্ঞাপন


অভিযোগ রয়েছে, এই দুই ব্যক্তি নিজেদের রক্ষা করতে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিব্রত করতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অভিযোগ, যশোর কেন্দ্রীয় পোস্ট অফিস থেকে প্রশাসনের এক কর্মকর্তার নাম ও পদবি জাল করে ভুল তথ্য পাঠানোর সময় ড. আমজাদ হাতেনাতে ধরা পড়েন। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্তে জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

এ ছাড়া, মারুফ হোসেন সুকর্ণ নামে জনৈক সাবেক শিক্ষার্থীর মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে (ইউজিসি) বেনামে চিঠি ও মিথ্যা অভিযোগ পাঠানো হচ্ছে বলেও শিক্ষক সমাজ দাবি করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ড. মো. আমজাদ হোসেন তার সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয় অস্থিতিশীল করার কোনো কাজের সাথে জড়িত নই। বরং আমার বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে।’


বিজ্ঞাপন


অন্যদিকে, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান দাবি করেন, তিনি প্রশাসনের কিছু অনিয়ম ধরে ফেলায় তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি সব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

যবিপ্রবি ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে অপতথ্য ছড়ানোর বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘গুজব ও মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে আমরা শক্ত অবস্থানে আছি। যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর পেছনে আরও কারা জড়িত, তা শনাক্তের কাজ চলছে।’

বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে প্রশাসনিক সকল কর্মকাণ্ড যথাযথ নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। অস্থিতিশীল করার এই চেষ্টা শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার একটি অপপ্রয়াস মাত্র।

প্রতিনিধি/একেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর